প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন না, হয়তো ব্যস্ত ছিলেন : মমতা

পুরানো ছবি

বিধানসভার নির্বাচনে জেতার পর মমতা বন্দোপাধ্যায় নানা জায়গা থেকে আসা অভিনন্দনবার্তায় ভাসছেন। তাকে ইতোমধ্যেই অভিনন্দন জানিয়েছেন দিল্লি, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পাঞ্জাব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ফোন করে অভিনন্দন জানালেও ফোন করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তবে কম যাননি মমতা বন্দোপাধ্যায়ও। তিনি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ফোন করেননি তাকে। এমন ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “এই প্রথম দেখলাম কোনো প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন না। আমি অবাক হয়েছি।” মমতার মুখে এ কথা শুনে তাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধামন্ত্রী ফোন করেননি আপনাকে? মমতার জবাব, “না উনি আমাকে ফোন করেননি। হয়তো ব্যস্ত ছিলেন।” এরপরই তৃণমূল নেত্রী বলেন, অবশ্য আমি কিছু মনে করিনি। জাতীয় স্বার্থে এবং রাজ্যের স্বার্থে আমাদের যেখানে একসঙ্গে কাজ করার কথা সেখানে সহযোগিতা থাকলেই হল।

তবে ফোন না করলেও অবশ্য মমতা এবং তৃণমূলকে টুইটারে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মিলেমিশে করোনায় একসঙ্গে কাজের কথা বলেন।

তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার (০৫ মে) সকাল পৌনে ১১টায় রাজভবনে শপথগ্রহণ করবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। যদিও শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি উপস্থিতি থাকবেন না বলেই খবর। আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও। তিনি আসবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী, বিজেপি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা, বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুকেও। এছাড়া শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের তরফে হাজির থাকতে পারেন বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক সুব্রত মুখোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। তারকা সাংসদ দেব এবং শতাব্দী রায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। তবে এবার অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা নেতা-নেত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দেশের করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

রাজ্যে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। তাদের দখলে ২১৩টি আসন। তবে নন্দীগ্রাম আসন থেকে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন প্রশ্ন হল, বিধায়ক না হয়েও কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় কোনও বাধা থাকে? এই প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী মমতার শপথগ্রহণে কোনও বাধা থাকছে না। তবে শপথগ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে তাকে বিধায়ক হতে হবে।

সংবাদ সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা