রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়াই সেরা সমাধান: যুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফেরত যাওয়াকেই ‘সেরা সমাধান’ মনে করে ওয়াশিংটন, সেজন্য রাখাইন রাজ্যকে নিরাপদ করার দায়িত্ব মিয়ানমারকেই নিতে হবে বলে জানান ঢাকায় সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্তারা। অন্যথায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে তারা।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্তারা এসব কথা বলেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সঙ্কট ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘টপ ইস্যু’ বলেও জানান এই দুই কর্মকর্তা।

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবন দেখে এবং অত্যাচারের বর্ণনা শুনে ঢাকায় ফেরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্তারা তাদের সরেজমিন পরিদর্শনকে দেখছেন ‘চোখ খুলে দেওয়া’ সফর হিসেবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এবং জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রীর নেতৃত্বে বড়সড় একটি প্রতিনিধি দল কুতুপালংয়ে থাকা অবস্থায়ই কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখেছেন।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সে কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, রাখাইনে নিশ্চয়ই এমন কিছু ঘটছে যাতে এত মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

জনসংখ্য, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক মার্কিন ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী সাইমন হেনশ বলেন, এটি জটিল সঙ্কট, সেটা মিয়ানমারে গিয়েই পরিষ্কার হয়েছি। মিয়ানমারকে বলেছি, নৃশংসতার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও তাদের। আমরা রাখাইনে নিরাপত্তা বিধান করার আহ্বান জানিয়েছি, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারে। কেননা, রোহিঙ্গারা যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফিরে যাওয়াটাই সেরা সমাধান।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখেই আমরা অবরোধের বিষয়টি বিবেচনা করবো, এর ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব। কংগ্রেসও আমাদের কিছু উপায় বাতলে দিয়েছে। তবে আমরা মনে করি, ফল যত হতাশাজনকই হোক, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরী। আমরাও সহযোগিতা করবো, যাতে দ্রুত সমাধানে আসা যায়। সে জন্য আমরা কূটনৈতিকসহ অন্য যে কোন পদক্ষেপ নেব। আমাদের কাছে রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি ‘টপ ইস্যু’।

বৈদেশিক অর্থ প্রাপ্তির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ গরিমসি করছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইমন হেনশ বলেন, এই অর্থ বাংলাদেশ পাচ্ছে না বরং সরাসরি যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের কাছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট বলেন: আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে, ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরেই শুধু নয় বরং হোয়াইট হাউজও রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এশিয়া সফরে, সেখানেও বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। জানাতে চাই, বিষয়টি আমেরিকানরা কতটা ভাবছে এবং এ নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন।

রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উল্লেখ করে তারা জানান, দ্রুতই তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মিয়ানমার যাচ্ছেন, যেখানে সমস্যার শুরু এবং যেখানে সমাধান।

অল্প সময়ে এত রোহিঙ্গা প্রবেশ করার পরও বিষয়টি বাংলাদেশ যেভাবে সামলে নিয়েছে তার প্রশংসা করে কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২২ ঘণ্টা, ০৪ নভেম্বর ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/সাদ

Scroll to Top