ইমরান ও বুশরার ১৪ বছরের জেল সাজা স্থগিত

সংগৃহীত ছবি

আদালতের লড়াইয়ে আরও একটি জয় পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রধান ইমরান খান। তোশাখানা মামলায় সস্ত্রীক ইমরান খানের ১৪ বছর কারাবাসের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। তবে এতে করে তার মুক্তি মিলছে না। জেলেই থাকতে হবে ইমরানকে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ইমরান খান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তোশাখানা মামলা দায়ের করেছিল জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (এনএবি)। এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজের দেওয়া উপহারের দুটি অলংকার কম দাম দেখিয়ে তোশাখানা থেকে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

পরের মাসে ইসলামাবাদের জবাবদিহি আদালত দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় এনএবির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও বিদেশি প্রতিনিধির কাছ থেকে সব মিলিয়ে ১০৮টি উপহার গ্রহণ করেছেন।

এরপর সাধারণ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে গত ৩১ জানুয়ারি ইসলামাবাদের জবাবদিহি আদালত এই দুজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়াও ইমরান ও তার স্ত্রীকে ১০ বছরের জন্য সরকারি দায়িত্ব পালনে নিষিদ্ধ করা হয় এবং প্রত্যেককে ৭৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় ইমরান খানকে আদালতে হাজির করা হলেও তার স্ত্রী অনুপস্থিত ছিলেন। অবশ্য পরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

২০২২ সালের এপ্রিলে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়। বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে সাজা ভোগ করছেন তিনি।

তোশাখানা মামলার পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে বিয়ে (বুশরার ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া) করার এক মামলায় প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন আরেকটি আদালত।

এছাড়াও ৩০ জানুয়ারি সাইফার ফাঁসের মামলায় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনের অধীন গঠিত বিশেষ আদালত ইমরান খান ও তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।