আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জেনেভায় পরমাণু আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল নৌবহর মোতায়েন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় সম্ভাব্য ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় পুরো ইসরায়েল জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের অত্যাধুনিক অ্যারো এবং ডেভিডস স্লিং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রেখেছে। তেল আবিব আশঙ্কা করছে, মার্কিন বাহিনী যদি ইরানে আগে হামলা চালায়, তবে তেহরান সরাসরি ইসরায়েলের জনবহুল শহরগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি আয়াতুল্লাহর শাসিত প্রশাসন ইসরায়েলে হামলার ভুল করে, তবে তাদের এমন ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা তাদের কল্পনারও বাইরে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার মতে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে।
যদিও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতীতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে, তবুও সামরিক বিশ্লেষকরা চিন্তিত। তাদের মতে, ইরান যদি একসঙ্গে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়, তবে সেই বিশাল সংখ্যাধিক্যের চাপে প্রতিরক্ষা ঢাল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যুদ্ধের এই মেঘ শুধু ইরানের আকাশেই নয়, ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তেও ঘনীভূত হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীও তাদের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখছে। ধারণা করা হচ্ছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে হিজবুল্লাহ উত্তর দিক থেকে ইসরায়েলকে আক্রমণ করবে। বর্তমানে ইসরায়েল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করলেও, ইসরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো কূটনৈতিক বা সামরিক সমাধানের ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করা তাদের প্রধান শর্ত।







