মার্কিন পপতারকা বিলি আইলিশ সম্প্রতি ‘এল’ (Elle) ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে নিজের ক্যারিয়ার, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তার নতুন কনসার্ট মুভি ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য টুর (লাইভ ইন থ্রিডি)’ মুক্তির প্রাক্কালে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার চতুর্থ অ্যালবামের কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ধনকুবেরদের অঢেল সম্পদ এবং মার্কিন অভিবাসন সংস্থা ‘আইসিই’ (ICE)-এর বিরুদ্ধে তার সাহসী অবস্থান।
বিলি আইলিশ তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা তার বেড়ে ওঠারই অংশ। মানুষের জন্য কথা বলার মতো বিশাল একটি প্ল্যাটফর্ম থাকার পরও কেবল বিতর্কের ভয়ে চুপ থাকাকে তিনি অর্থহীন মনে করেন। তার মতে, কেউ যখন বুলিং বা নিগ্রহের শিকার হয়, তখন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা মোটেও বিতর্কিত কোনো বিষয় হতে পারে না।
উল্লেখ্য, এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জেতার পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি আইসিই-এর কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং সাফ জানিয়েছিলেন যে, অন্যের থেকে দখল করা জমিতে কেউ ‘অবৈধ’ হতে পারে না।
ধনকুবেরদের নিয়েও বিলি আইলিশের অবস্থান বেশ কড়া। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইনোভেটর অ্যাওয়ার্ডসে মার্ক জাকারবার্গের উপস্থিতিতেই তিনি ধনকুবেরদের প্রশ্ন করেছিলেন, তারা কেন এত অর্থ নিজেদের কাছে জমিয়ে রাখছেন। এ ছাড়া ইলন মাস্কের সম্পদের পাহাড় গড়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি। তবে বিলি কেবল কথা বলেই ক্ষান্ত হননি; নিজের কনসার্ট ট্যুর থেকে প্রাপ্ত ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি যা বলেন, তা বিশ্বাসও করেন।
এদিকে বড় ভাই ফিনিয়াসের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি নিয়ে ওঠা গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়েছেন এই গায়িকা। প্রথমবারের মতো ফিনিয়াসকে ছাড়াই ট্যুরে বের হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বিলি জানান, ভাইবোনের মধ্যে ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তাদের মধ্যে কখনো বড় কোনো বিচ্ছেদ সম্ভব নয়। ফিনিয়াসকে ছাড়া তিনি গান তৈরির কথা চিন্তাই করতে পারেন না। মূলত আলাদাভাবে নিজেদের জীবন গুছিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে মানুষ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সূত্র: ভ্যারাইটি







