যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে ততই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে দেশ দু’টি। দুই দেশের ওপরই এখন যুদ্ধ অবসানের প্রচণ্ড মানসিক ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমপ্রসারণে তেহরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত, অন্যদিকে নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জয় খুঁজছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই এখন নিজেদের মর্যাদা বাঁচিয়ে এই সংকট থেকে সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছে।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লুসিয়ানো জাকারা বলেন, ‘এই মুহূর্তে উভয় পক্ষই চরম চাপের মুখোমুখি।’

সংকটের গভীরতা ব্যাখ্যা করে জাকারা জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের দৃশ্যমান কিছু প্রাপ্তি প্রয়োজন। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে, অবিলম্বে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অচলাবস্থায় সার্বিক অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অবস্থাও সমপরিমাণ জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে এই জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক জট থেকে এমনভাবে বেরিয়ে আসতে হবে, যেন আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে ‘বিজয়ী’হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পান। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের কাছে সামরিক ও কূটনৈতিক সফলতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

Scroll to Top