হামলার হুমকি, বিদেশি কূটনীতিকদের ইউক্রেন ছাড়তে বলল রাশিয়া

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে আরও বড় ধরনের ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। শুধু তাই নয়, আসন্ন চরম বিপদের আশঙ্কায় কিয়েভে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিক এবং কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের অবিলম্বে রাজধানী ত্যাগ করার কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছে মস্কো।

সম্প্রতি কিয়েভের দনিপ্রো নদীর ওপর একটি সেতুতে রুশ জেট-চালিত ড্রোনের আকস্মিক হামলার পর এই চরম হুঁশিয়ারি এলো। আসন্ন তীব্র শীতের ঠিক আগে রাশিয়ার এই লাগাতার আক্রমণ ইউক্রেনের রাজধানীর ত্রিশ লাখ বাসিন্দার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে রুশ ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট হামলা অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয় আরও জোরালোভাবে সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে অবস্থান করা বা এর ভূখণ্ডে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বিদেশি নাগরিকদের, যার মধ্যে কূটনৈতিক মিশনের কর্মীরাও রয়েছেন, সতর্ক করছে। এই সতর্কতাকে যারা উপেক্ষা করবে, যেকোনো ধরনের প্রতিকূল পরিণতির সম্পূর্ণ দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তাদেরই বহন করতে হবে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সপ্তাহে জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়ার ওপর হামলার চড়া মূল্য চোকাচ্ছে ইউক্রেন। মস্কোর বাহিনী যখন একের পর এক লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানছে, তখন ইউক্রেনকে এই খেসারত ভবিষ্যতেও দিয়ে যেতে হবে।

যুদ্ধের ময়দানে সংঘাতের পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই কৃষ্ণ সাগরে একে অপরের শস্যবাহী জাহাজে হামলা জোরদার করেছে। পাশাপাশি, রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ইউক্রেনীয় গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকরাও প্রাণ হারাচ্ছেন।

সূত্র: রয়টার্স

Scroll to Top