পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মরীচিকা

পাকিস্তানে চব্বিশ বছর আগে ২০০২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন অধ্যাদেশে’ স্বাক্ষর করেছিলেন, যেটি পাকিস্তানের যুগান্তকারী উচ্চশিক্ষা সংস্কারের সূচনা করেছিল আনুষ্ঠানিকভাবে। উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিল পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি)।

মাত্র দুই যুগ পরে দেশটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং গবেষণা প্রকাশনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও আর্থিক সংকট, শিক্ষার মানের অবনতি ও গবেষণায় অনিয়মের কারণে পুরো ব্যবস্থা এখন গভীর সংকটে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে দেশটিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল ৫৮টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৮টিতে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ২ লাখ ৭৬ হাজার থেকে বেড়ে ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ২০০২ সালে দেশটির মোট পিএইচডি ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার।

এখন এক বছরেই ৩ হাজারের বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী তৈরি হচ্ছে। গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যাও ২০০২ সালের প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যাত্রায় ‘মরীচিকা’
তবে এই অগ্রগতির আড়ালে রয়েছে ভয়াবহ আর্থিক সংকট। বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার সমীক্ষায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঋণখেলাপি হতে পারে। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষণে বলা দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বার্ষিক বরাদ্দ ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ৬৫ বিলিয়ন রুপিতে আটকে আছে। অথচ চলতি বছরে উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রয়োজন ছিল ১৩৮ বিলিয়ন রুপি।

শুধু অর্থসংকট নয়, শিক্ষার মান নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। ১৯০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শেষ বর্ষের ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন ৮০ শতাংশের বেশি। ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থী পেয়েছেন ৫০ শতাংশের কম। শুধু তাই নয়, গবেষণার ক্ষেত্রেও উঠে এসেছে অনিয়মের চিত্র। নিম্নমানের ও সন্দেহজনক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ, তথ্য জালিয়াতি এবং অন্যের গবেষণা নকলের প্রবণতাও বাড়ছে।

২০২৫ সালের এক গবেষণায় প্রতি ১০ হাজার গবেষণাপত্রে ২৮ দশমিক ১টি প্রত্যাহারের হার নিয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বা শিক্ষার্থী ও গবেষণার সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার মান, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, গবেষণার সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। সূত্র: ডন নিউজ

Scroll to Top