‘ডেজার্ট স্টর্ম’ মডেলে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র, ঘনাচ্ছে বিপদ?

উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে মার্কিন বিমান বাহিনীর যে বিশাল সমাবেশ দেখা যাচ্ছে, তা মূলত নব্বইয়ের দশকের ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’-এর সেই বিধ্বংসী আকাশপথের আধিপত্যের কৌশলের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এফ-২২ র‍্যাপ্টর, এফ-৩৫এ এবং ইউ-২ ‘ড্রাগন লেডি’র মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও গোয়েন্দা বিমানগুলোর মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে, পেন্টাগন এখন সরাসরি শত্রু নিধনের পুরনো কিন্তু কার্যকর তত্ত্বে ফিরেছে। এই রণসজ্জা কেবল শক্তি প্রদর্শন নয় বরং প্রতিপক্ষকে আকাশপথে পুরোপুরি কোণঠাসা করার একটি সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালের জুন মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সাফল্য এই নতুন কৌশলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। সেই অভিযানে সাতটি বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানের ফোরডো এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছিল। একই সময়ে ইসফাহানের একটি কেন্দ্রে টমাহক ক্রুজ মিসাইল দিয়ে হামলা চালানো হয়। সেই সফল অভিযানের পর থেকে মার্কিন সামরিক নীতিনির্ধারকরা এখন স্থলযুদ্ধের পরিবর্তে আকাশপথের পদ্ধতিগত আক্রমণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী দখলদারিত্বের ফাঁদে না পড়েও লক্ষ্য হাসিল করা যায়।

ল্যাংলি বিমান ঘাঁটি থেকে এফ-২২ র‍্যাপ্টরের একটি বিশাল বহর সম্প্রতি ল্যাকেনহিথে পৌঁছেছে, যা বড় ধরনের কোনো অভিযানের স্পষ্ট পূর্বাভাস। এর আগে গত জানুয়ারিতে ভার্জিনিয়ায় এই যুদ্ধবিমানগুলোর বিশেষ মহড়া তাদের তাৎক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতির সক্ষমতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল। মার্কিন এয়ার কমব্যাট কমান্ডের অধীনে থাকা এই বাহিনী যে কোনো মুহূর্তে জাতীয় প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং শত্রুর আকাশসীমায় ঢুকে পড়তে সক্ষম।

এই পুরো সামরিক পরিকল্পনায় ইউ-২ ‘ড্রাগন লেডি’ গোয়েন্দা বিমানগুলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ৭০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা দিয়ে উড়ে চলা এই বিমানগুলো ডিজিটাল ইমেজিং এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে শত্রু শিবিরের প্রতিটি নড়াচড়া ট্র্যাক করতে পারে। যদিও এগুলো নিয়মিতভাবে যুক্তরাজ্যের এয়ার বেস থেকে পরিচালিত হয়, তবে বর্তমানে ইরান বা ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এগুলোর তৎপরতা প্রমাণ করে যে, পেন্টাগন এখন রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের পরবর্তী আক্রমণের ছক সাজাচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড ডেপটুলা মনে করেন, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র তার চিরাচরিত আকাশপথের শ্রেষ্ঠত্ব থেকে বিচ্যুত হয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থলযুদ্ধ এবং রাষ্ট্র গঠনের মতো জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিল। ৯/১১ পরবর্তী সময়ে আফগানিস্তান বা ইরাকে মার্কিন বাহিনী যে ধরনের দখলদারিত্বের নীতি গ্রহণ করেছিল, তাকে তিনি একটি কৌশলগত ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বর্তমানে সময় এসেছে সেই ভুল শুধরে নিয়ে পুনরায় আকাশপথের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহার করে শত্রুকে দ্রুত পরাজিত করার নীতিতে ফিরে যাওয়ার।

এই নতুন সামরিক দর্শন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন একটি মডেল তৈরি করছে যেখানে স্টিলথ প্রযুক্তি এবং উচ্চ-উচ্চতার গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় ঘটবে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে আকাশপথের যে ভয়াবহ ক্ষমতা বিশ্ব দেখেছিল, চীন সেই শিক্ষা থেকে নিজেদের শক্তিশালী করেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও প্রমাণ করতে হবে যে তাদের প্রযুক্তির উৎকর্ষ এখনও অপরাজেয়।

দক্ষিণ কোরিয়া এবং ন্যাটো মিত্রদের সাথে সাম্প্রতিক যৌথ মহড়াগুলোতে এফ-৩৫এ লাইটনিং-টু এ

Scroll to Top