স্বাস্থ্যকর্মীদের মন্ত্রণালয়ে ডেকে জরুরি বৈঠক, দাবি পূরণে কমিটি গঠন

স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, পোর্টারসহ বিভিন্ন পদে কর্মরতদের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ. টি. এম. সাইফুল ইসলাম, মনোয়ারা ইশরাত, নাফরিজা শ্যামা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বাস্থ্য কর্মীদের পক্ষ থেকে আগত প্রতিনিধিরা চাকরিতে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। তারা টেকনিক্যাল কাজ করেন এবং টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ থাকা স্বত্বেও স্বীকৃতি নাই। পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। সর্বোপরি বহুবছর ধরে তাদের বেতন গ্রেড উন্নয়নের দাবি বাস্তবায়ন ঝুলে আছে। তাদের প্রায় সবার মূল বেতন ইতিমধ্যে কাঙ্ক্ষিত গ্রেডের উপরে অবস্থান করছে। অর্থাৎ গ্রেড উন্নয়ন করলে সরকারের আর্থিক খরচ বাড়বে না বললেই চলে। তবে তাদের পরিবারের কাছে ও সামাজিকভাবে সম্মান বাড়বে।পোর্টার পদে কর্মরতদের কিছু বেতন ভাতা বাকী আছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাস্থ্য কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া ও বঞ্চনা সম্পর্কে আমরা জানি। আজকেও একটি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন আপনাদের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।

স্বাস্থ্য সচিব আরও বলেন, আসন্ন জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে কাজ করুন। সরকারকে সহযোগিতা করুন। আমাদের উপর আস্থা রাখুন। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের বিষয়ে অবগত আছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনাদের কল্যাণে সবধরনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনাদের ন্যায্য দাবি পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই দাবি দাওয়ার বিষয়গুলো আসন্ন জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি থেকে আলাদা থাকাই ভালো ।

সভায় স্বাস্থ্য কর্মীদের ন্যায্য দাবী পূরণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানকে সভাপতি করে একটি কমিটি করে দেয়া হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের এসোসিয়েশনগুলো থেকে ১ জন করে প্রতিনিধি। এসোসিয়েশনগুলো হলো, বাংলাদেশ হেলথ ইন্সপেক্টর এসোসিয়েশন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমিতি, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এসোসিয়েশন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টরশীপ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, পোর্টার কল্যাণ সমিতি।

স্বাস্থ্য কর্মীদের ন্যায্য দাবি পূরণের লক্ষ্যে কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

সভায় আগত স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদের ডেকে সভা করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেইসাথে জানান টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। তারা আসন্ন জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও পরিশ্রম করার প্রতিশ্রুতি দেন।

Scroll to Top