কি রোমহর্ষক!

ভয়াবহ ও রোমহর্ষক নির্যাতনের খবর প্রকাশ্যে এনেছেন এক ফরাসি নারী। তার অভিযোগ, প্রাক্তন সঙ্গী তাকে সাত বছর ধরে আটকে রেখে চারশ ৮৭ জনেরও বেশি পুরুষের কাছে বিক্রি করেছেন। লায়েতিসিয়া আর. নামের ৪২ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারী আদালতে জানান, দীর্ঘ এই সময়ে তিনি অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। প্রতিটা মুহূর্ত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার মতো অনুভূতি হতো।

ফ্রান্সের একটি আদালত এই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যাংক ম্যানেজার গুইলাম বুচ্চিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সময় পার হওয়ার আগে তিনি প্যারোলের আবেদন করতে পারবেন না।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত লায়েতিসিয়াকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল ও মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন বুচ্চি। শুরুতে পারস্পরিক সম্মতির কথা বলে সাধাসিধেভাবে সম্পর্ক শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। শ্বাসরোধ করা, পুড়িয়ে দেওয়া এবং পৈশাচিক আচরণের মতো ভয়ঙ্কর সব নির্যাতনের শিকার হতে হয় ওই নারীকে। পরবর্তীতে বুচ্চি তাকে বাধ্য করেন বিভিন্ন অপরিচিত মানুষ, বন্ধু এবং সহকর্মীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে। এমনকি সেইসব পুরুষদের একটি তালিকা রাখতেও বাধ্য করা হয়, যেখানে লায়েতিসিয়া চারশ ৮৭ জন পুরুষের হিসাব রাখার পর আর গণনা করতে পারেননি।

আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় চার সন্তানের জননী লায়েতিসিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে দিনের পর দিন এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতনের কারণে তিনি বর্তমানে গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বুচ্চি আদালতে নিজের অপরাধ আংশিক স্বীকার করলেও দাবি করেন, এগুলো তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যকার সম্মতিসূচক খেলা ছিল এবং তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি সঙ্গীকে আঘাত করছেন।

প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে বুচ্চির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছিলেন, যাতে তিনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো নারীর জীবন ধ্বংস করতে না পারেন। তবে আদালত তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অতি সম্প্রতি ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত গিসেল পেলিকট মামলাটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই লায়েতিসিয়া নিজের সাথে ঘটা এই নির্মম অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার এবং আইনি লড়াই করার সাহস পান বলে জানিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Scroll to Top