ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রসর হলে আর্মেনিয়ায় সস্তা তেল ও গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তিগুলো স্থগিত বা বাতিল করে দেবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া।
৭ জুন দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় নির্বাচনের আগে মস্কোর পক্ষ থেকে এ হুঁমকি এলো। ২০২১ সালের পর দেশটিতে এটিই প্রথম নিয়মিত নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের নেতৃত্বাধীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
পাশিনিয়ান পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক স্থাপন করার খবরে রাশিয়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে।
বুধবার (২৭ মে) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা আরআইএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, রুশ দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া চলতে থাকে তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং অপরিশোধিত হীরা সরবরাহে সহযোগিতা চুক্তিটি স্থগিত বা একতরফাভাবে বাতিল করা হবে।
প্রায় ৩০ লাখ জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত দেশ আর্মেনিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দেশটি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, গত বছর দেশটি ২.৭ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম) গ্যাস আমদানি করেছে, যার ৮২ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি দেখা দেয়। কারণ ইয়েরেভান ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর করতে চেয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মস্কো আর্মেনিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রুশ-বিরোধী বলয়ে’ জড়িয়ে পড়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইয়েরেভান সফর করেন এবং আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেন। আর্মেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য একটি আইনও গ্রহণ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স।






