মেলোনি ইস্যুতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর বাতিল

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। তাজানি ট্রাম্পের দাবিগুলোকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মেলোনি বলেছেন, ট্রাম্পের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট।

সংবাদমাধ্য দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার কাছে একটি ছবির জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন এবং তিনি তার জন্য দুঃখ বোধ করায় তাতে রাজি হয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সে আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিল। সে আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য এতটাই মরিয়া ছিল। আমি হয়তো ছবিটা তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল। এরপর এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে জানান জর্জিয়া মেলোনি।

আগামী সপ্তাহে তাজানির মায়ামিতে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসা, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন ফোরামে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিওর এর বৈঠকে ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিষয়ে উভয় পক্ষের আলোচনার কথা ছিল।

ট্রাম্প ও মেলোনির মধ্যে এটাই প্রথম বিবাদ নয়। চলতি বছরের শুরুতে ডানপন্থী ইতালীয় নেতা মেলোনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতার জন্য পোপ চতুর্দশ লিও-র প্রতি ট্রাম্পের সমালোচনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন। এরপর ট্রাম্প মেলোনি এবং ইতালিকে আরও ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেন।

মেলোনিকে ট্রাম্প সবচেয়ে একনিষ্ঠ পশ্চিম ইউরোপীয় মিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতে তার অস্বীকৃতির কারণে এই সম্পর্কটি কিছুটা তিক্ত হয়েছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে মেলোনি ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন এবং তিনিই একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন যিনি তার দ্বিতীয় অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো বিষয়ে দুজনের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। অতীতে ট্রাম্প অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি তার বৈরী মনোভাবের বিপরীতে মেলোনিকে ব্যক্তিগতভাবে প্রচুর প্রশংসায় ভরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিচিত।

সূত্র: সিএনএন।

Scroll to Top