খার্গ দ্বীপ রক্ষায় যেসব প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান: সিএনএন

ইরানের খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় দেশটি কয়েক মাস ধরে ব্যাপক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপটিতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই প্রস্তুতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

গত মার্চে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলার পরপরই ইরান খার্গ দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা আরও সম্প্রসারিত করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দ্বীপটির প্রতিরক্ষায় ইরান অতিরিক্ত স্বল্প-পাল্লার, কাঁধে বহনযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) মোতায়েন করেছে। এসব ব্যবস্থা মূলত কম উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমান ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া, সম্ভাব্য স্থল অভিযান প্রতিহত করতে দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় স্থলমাইন স্থাপন করা হয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়। বিশেষ করে দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় এসব বিস্ফোরক বসানো হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য মার্কিন সেনা অবতরণের ঝুঁকি থাকতে পারে।

খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে রফতানি করা হয়। ফলে দ্বীপটির নিরাপত্তা ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন সামরিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনও অভিযান পরিচালনা করে, তবে তা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হবে এবং এতে বড় ধরনের প্রাণহানির সম্ভাবনাও রয়েছে। সূত্র: সিএনএন

Scroll to Top