যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান ইস্যুতে মতপার্থক্য ক্রমেই প্রকাশ্যে তুলে ধরছে ভারত। কয়েক মাস ধরে নীরব থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির সমালোচনায় সরব হয়েছে নয়াদিল্লি। এর পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতি ওয়াশিংটনের যথেষ্ট সংবেদনশীলতা নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলা বাণিজ্যনীতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বিরোধ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৯১০ কোটি ডলার। এতে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার। তবে দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। কৃষি খাতে বাজার উন্মুক্ত করার প্রশ্নটি আলোচনার অন্যতম জটিল বিষয়।
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে এ ধরনের শুল্ক কার্যকর হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অজয় বিসারিয়া।
পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে নিজের ভূমিকার দাবি করেন। কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসা ভারতের কাছে বিষয়টি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন।
জয়শঙ্করের বক্তব্য, প্রতিবেশী দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়া ভারতের উদ্বেগ যথাযথভাবে উপলব্ধি করছে না যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষক হর্ষ পান্তের মতে, পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের মনোযোগ ভারতের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।
অভ্যন্তরীণ চাপও কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে ভারতীয়রা দীর্ঘদিন ধরে বড় সুবিধাভোগী হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও ভিসাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী বছর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন সামনে থাকায় মোদি সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে বলে মনে করেন বিসারিয়া।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, মতপার্থক্য বাড়লেও দুই দেশ সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়নি। একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা






