ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর কূটনৈতিক সম্পর্কে ‘নজিরবিহীন’ অবিশ্বাস

যুক্তরাষ্ট্র গত রাতে ইরানের একটি বিমানবিধ্বংসী স্থাপনায় ‘ছোটখাটো হামলা’ চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের সম্প্রতি নির্মিত ওই স্থাপনাটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম ও নজিরবিহীন অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রচুর মানুষ হত্যা করতে চান না, তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তা করতে পিছপা হবে না। বর্তমান মার্কিন বাহিনীকে অত্যন্ত শক্তিশালী দাবি করে তিনি ইরানকে বিশ্বের ‘এক নম্বর রাষ্ট্রীয় মদদদাতা সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সব জাহাজ সাগরের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ২৮৮টি উড়োজাহাজ রানওয়েতেই টুকরো টুকরো করে ধ্বংস করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, বর্তমানে দেশটির কোনো উড়োজাহাজ বা বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই।

গত রাতের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো যুদ্ধ ছিল না, বরং একটি ছোটখাটো আঘাত। ট্রাম্প জানান, ইরান প্রায় দুই মাস ধরে একটি বিমানবিধ্বংসী স্থাপনা তৈরি করছিল। যুক্তরাষ্ট্র পুরো সময় ধরে এর নির্মাণকাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং কাজ শেষ হওয়ামাত্রই গত রাতে সেখানে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।

এ ধরনের মার্কিন হামলার খবরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল জাজিরাকে জানান, উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে, তা একেবারেই ‘নজিরবিহীন’। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের আক্রমণাত্মক কথাবার্তা এবং নতুন এই হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ক্রিগ আরও জানান, কাতার ও পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো দুই পক্ষের মধ্যে হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে এটি তখনই সম্ভব হবে, যখন উভয় পক্ষ নিজেদের শর্ত পূরণে সন্তুষ্ট হবে। তার মতে, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করবে। তবে শেষ পর্যন্ত যেকোনো চুক্তি ইরানের নিজস্ব শর্ত অনুযায়ীই হতে হবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

Scroll to Top