কুমিল্লার লাকসামে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে ঈদ পোশাক উপহার

গৃহীত

ঈদের আনন্দ তো আসলে শিশুদের জন্যই। শপিং সেন্টারগুলোতে শিশুদের পোশাকের দোকানে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। নতুন পোশাক ছাড়া শিশুদের কি ঈদ হয়! শুধু তাই নয়, পোশাক কিনেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টাও করে অনেক শিশুই। কেউ দেখলে পুরনো হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে যাদের ঈদ কাটে জরাজীর্ণ পুরাতন পোশাক আর অনাহারে। আমরা কত জনই বা তাদের নিয়ে ভাবি না।

কুমিল্লার লাকসামে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে ঈদ পোশাক উপহার দিয়েছেন দেশের সুপরিচিত শিল্প প্রতিষ্ঠান চৈতী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম। নিজ অর্থায়নে স্থাপিত ও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তিনি এ উপহার দেন। তবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা চিন্তা করে প্রতিবছর তাদের কাছে ঈদের উপহার পৌঁছে দেয়।

জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে চৈতী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম লাকসামের মুদাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পাশাপুর নিজ বাড়ির সামনে দৃষ্টিনন্দিত বিদ্যালয় চালু করেন। ‘মোঃ আবুল কালাম স্কুল এন্ড কলেজ’ নামে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অধ্যয়নের পাশাপাশি সকল শিক্ষা উপকরণ প্রদান ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ যোগাতে ঈদ পোশাক উপহার দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ৫৬২ জন ছাত্র-ছাত্রীরর মধ্যে এ ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ের শিক্ষককরা শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে ঈদ পোষাক তুলে দেন। এ সময় সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মুখে হাসি ফোটে উঠে। শিক্ষার প্রতি আবুল কালামের এমন আন্তরিকতা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

চৈতী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি যতবেশি শিক্ষিত সেই জাতি ততবেশি উন্নত। গ্রামীন জনপদের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে পেরে ভালো লাগছে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে গরীব, অসহায়, কর্মহীন মানুষ সমস্যায় পতিত হয়েছেন। অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে ঈদের পোশাক ক্রয় করতে পারেনি। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের ঈদ পোষাক উপহার দিয়েছি।