করোনাঃ সচেতনতায় পড়েছে ভাটা, হাত পরিষ্কারে অনীহা

Hands clean

মহামারী করোনা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে নিয়ম মেনে হাত ধোয়া। কিন্তু নিয়ম থাকলেও কেউ যেন মানার তোয়াক্কা করছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম করে হাত ধুলে শুধু করোনা নয় বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কমপক্ষে ১০ সেকেন্ড ধরে ভালো করে হাত ধোয়া উচিত। কিন্তু সচেতনতার অভাবে কেউ সহজে হাত ধুতে আগ্রহী নন। করোনার সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সচেতনতায় পড়েছে ভাটা। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে হাত পরিষ্কার করে না কেউ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগের পাশে আলাদা দুটি জায়গায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এই প্রবেশ পথটি বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ। তাছাড়া হাসপাতালের প্রধান ফটকসহ আরও চারটি ফটক খোলা রয়েছে। এসব ফটক দিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন হাজার হাজার রোগী ও স্বজনরা। জনবহুল এসব প্রবেশপথের কোনোটির পাশেই নেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও হাসপাতালে আসা রোগী ও তার স্বজনরা এ ব্যাপারে তেমন আগ্রহী নন।

এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালে উপ পরিচালক ডা.আফতাবুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের একটি স্থানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের প্রথম দিকে যে পরিমাণ মানুষ হাত ধুতো, তা এখন নেই বললেই চলে। আমাদের পরিকল্পনা আছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আরও বাড়ানো। তবে শুধু জায়গা বাড়ালে হবে না, মানুষের মধ্যে সচেতনতা থাকা জরুরি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) এর মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, হাত ধোয়ার প্রতি মানুষের অবহেলা বাড়াতে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি। শুধু করোনা নয় সব ধরনের জীবাণু থেকে মুক্ত থাকতে হলে অবশ্যই দুই হাত পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ সব ধরনের কাজ আমরা হাতের মাধ্যমে করে থাকি। তাই নিয়ম মেনে হাত ধুলে করোনা ছাড়াও প্রায় শতাধিক রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, বছরে একটি দিন প্রতীকি হিসেবে ‘হাত ধোয়া’ দিবস পালন করা হয়। আমাদের উচিত হাত ধোয়াকে অভ্যাসে পরিণত করা। রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নিজেকে পরিস্কার রাখা।

চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হাত ধোয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি দরকার সচেতনতা। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে তত বেশি রোগ জীবাণু থেকে মুক্ত থাকবে। করোনা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে-কিভাবে সচেতন থাকতে হবে।