\’যেকোনো দলকে সমর্থন দিতাম, কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে নয়\’

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে ২৪ টেস্ট খেলা উসমান খাজা অস্ট্রেলিয়ান হলেও মূলত তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। সেই খাজাই কিনা ছোটবেলায় ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে সমর্থন করতেন না! মূলত অতীতে বাড়াবাড়ি রকমের বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণেই এমন ঘৃণা জন্মেছে তার মনে। নতুন এক ব্লগ পোস্টে নিজের অজানা এ দিকটা জানিয়েছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

প্রথম মুসলমান ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলীয় দলে এসেছেন। এমন গৌরবের পেছনেও যে কষ্ট লুকিয়ে আছে, সেটি জানা গেল খাজার কাছ থেকে। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া একজন কিশোর ক্রিকেটারের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়া যে কত কঠিন ছিল, সেটিও জানিয়েছেন খাজা।

প্লেয়ার্স ভয়েস ওয়েবসাইটে খাজা লিখেছেন, ‘প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় এবং তাদের বাবা-মার বিদ্রূপ খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। অনেকেই এত আস্তে বলত, যা শুধু আমার কানে পৌঁছাত। ওসব ঘটনা আমাকে এখনো কষ্ট দেয়, তবে সেটি কখনো কাউকে বুঝতে দিতাম না। আমি যখন রান করতাম, তখনই এটা বেশি হতো।’

নিয়মিত এমন আচরণের শিকার হয়ে খাজা মনে মনে ক্ষুব্ধ হতেন, অসহায় বোধ করতেন। মানসিক এ অবস্থা একপর্যায়ে ঘৃণায় রূপ নিয়েছে, ‘কিছু বাবা-মা এটা খুব বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যেত। এ কারণেই আমার বন্ধুদের মধ্যে যারা অস্ট্রেলিয়ার বাইরে জন্ম নিয়েছে, তাদের অধিকাংশ খেলাধুলায় অস্ট্রেলিয়াকে সমর্থন করত না। আমিও না। বিশেষ করে ক্রিকেটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা কিংবা অন্য যেকোনো দলকে সমর্থন দিতাম। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে নয়।’

যে দেশে বেড়ে উঠছেন, যে দেশের হয়ে খেলতে চান, সে দেশকে সমর্থন দিতে না পারার কষ্টটা খাজাকে এখনো পোড়ায়। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যে কারও যাওয়া উচিত নয়, তা–ও মনে করিয়ে দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান, ‘এখন মনে হয়, আমরা যে অস্ট্রেলিয়াকে সমর্থন করতাম না, এটা খুবই হতাশাজনক। ছোটবেলা থেকে যে পরিস্থিতির মধ্যে বড় হয়েছি, সেটাই অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতি এমন ঘৃণার জন্ম দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া দলের কেউই তো দেখতে আমাদের মতো ছিল না। আমাদের বিনয়ী, শ্রদ্ধাশীল হিসেবে বড় করা হয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলের দিকে তাকালেই দেখতাম সবাই কঠিন মানসিকতার, তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা অমার্জিত মনে হতো। প্রায় এ ধরনের লোকজনই আমার পূর্বসূরি, বেড়ে ওঠা নিয়ে আমাকে কথা শোনাত।’

নিজের কথা বলতে গিয়েই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্ধকার অতীতকে টেনে এনেছেন খাজা। বর্ণবৈষম্যের কারণে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারেননি। এ কারণেই একবিংশ শতাব্দীতে এসে প্রথম কোনো মুসলমান ক্রিকেটার পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

তবে খাজা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টাতে শুরু করেছে, ‘আমি যেটি বোঝাতে চাইছি, অস্ট্রেলিয়া দলে অশ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়দের উঠে আসতে সময় লেগেছে—এটা তাই কোনো বিস্ময় জাগায় না। এতে তো কোনো সন্দেহ নেই, এক সময় দল নির্বাচনে জাতিবৈষম্য এবং রাজনীতি ভূমিকা রাখত। সাবেক অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে। তাদের দুর্ভাগ্য যে ওই বাজে সময়টাতেই তারা খেলেছেন। তবে আমার মনে হয় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট ও সমাজ সে সময়টা পেরিয়ে এসেছে। এখন উপমহাদেশের বাবা-মাও তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারেন।’

বাংলাদেশ সময়: ১২২৬ ঘণ্টা, ১০ অক্টোবর ২০১৭
লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসএফ

Scroll to Top