রাজধানীতে শ্লীলতাহানির মামলার পর আসামিকে ছাড়াতে তরুণীর কাণ্ড!

Police Case

রাজধানীর কাকরাইলের সেগুনবাগিচা রোডের রমনা মডেল থানার পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সড়কে শুয়ে পড়া। কিছুক্ষণ পরপর গড়াগড়ি। আবার শুয়ে থাকার ভান। কিছুক্ষণ পর উঠে হাঁটাহাঁটি, আবার রাস্তায় ঘুমের ভান।

সড়কে এক তরুণীর এমন অদ্ভুত দৃশ্য দেখে ভিড় জমে যায় আশপাশে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিরাপত্তা দিতে ঘিরে ফেললেন চারজন নারী পুলিশ।

রবিবার রাতে সেগুনবাগিচা রোডের রমনা মডেল থানার বাইরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। রমনা থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজেকে মডেল ও অভিনেত্রী পরিচয় দেওয়া ওই তরুণী সিদ্ধেশ্বরী এলাকার মৌচাক মার্কেটের পাশে থাকা এক ছেলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগে তিনি লিখেছেন, ছেলেটি নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার শ্লীলতাহানি করেছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলেটিকে গ্রেফতার করে রমনা থানা পুলিশ। ছেলেটিকে থানায় নিয়ে আসার পরপরই ঘটে অদ্ভুত ঘটনাটি।

রবিবার দুপুরে আসামি ছেলেকে গ্রেফতারের পর থানায় আসেন তিনি। ছেলেটির কাছ থেকে টাকা আদায় করে দিতে পুলিশের কাছে আবদার করেন। তবে পুলিশ সাফ জানিয়ে দেয়, ‘মামলা হয়েছে, আসামিও ধরা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের।’

পুলিশের কথায় মন গলেনি তার। তরুণীর দাবি, গ্রেফতার নয় বরং তাকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে দিতে হবে পুলিশকে।

একপর্যায়ে পুলিশ রাজি না হলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তিনি। রাস্তায় শুয়ে পুলিশকে গালিগালাজ করেন। পরে নিজ জিম্মায় আসামিকে থানা থেকে নিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিই। আসামি ধরার পর তিনি থানায় এসে বলেন, আসামিকে ছেড়ে দিতে হবে। পাশাপাশি আসামি থেকে টাকা আদায় করে দিতে হবে। তবে আমরা সাফ জানিয়ে দিই যে, টাকা আদায়ের কাজ পুলিশের নয়।’

‘একপর্যায়ে রাতে ওই তরুণী রাস্তায় শুয়ে সিনক্রিয়েট করেন। রাত ১টার সময় নিজ জিম্মায় ওই আসামিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।’ মামলা সূত্রে জানা গেছে, নানা প্রলোভনে ওই তরুণীকে ২০১২ সাল থেকে শ্লীলতাহানি করে আসছেন ওই ছেলে। এ বছরও একবার শ্লীলতাহানি করেছেন।

তবে এই দীর্ঘ আট বছর কেন তিনি শ্লীলতাহানির মামলা করেননি-এ বিষয়ে পুলিশকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ওই তরুণী।