করোনা: বদরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে বেপরোয়া গ্রাহক

bank

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে যখন একের পর এক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেও নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। ঠিক সে সময়ে রংপুরের বদরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চরম অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে লেনদেন করতে দেখা গেছে।

উপস্থিত গ্রাহকদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কোনো ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ রবিবার (১৭ মে) দুপুরের দিকে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, একজন আরেকজনের সঙ্গে গাঘেঁষাঘেঁষি করে টাকা তুলছেন। আবার কেউ কেউ ভিড় ঠেলে করছেন হুড়োহুড়ি। এতকিছুর পরেও দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা নিতে দেখা যায়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে আজ রবিবার ছিল অফিস খোলা। ব্যাংকের ভেতরে কোনো রকম শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি। হুড়োহুড়ি করে শতশত গ্রাহক লেনদেন করতে কাউন্টারের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। একজন আরেকজনের সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি করে তুলছেন টাকা। ব্যাংকে নিরাপত্তার জন্য আনসার বাহিনী থাকলেও তাদের কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। এমনকি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি প্রধান ফটকে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশনা দিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পৌরশহরের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ নামে এক গ্রাহক বলেন, করোনা দুর্যোগকালীন ভিড় সামলাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ছিল বদরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের ভেতরে। এখন কার শরীরে কি আছে তা জানা না গেলেও চরম অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সেখানে প্রতিদিন লেনদেন করছে গ্রাহকরা।

আইয়ুব আলী নামে আরেক গ্রাহক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সোনালী ব্যাংক ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন ভিড় দেখা যায়নি। এতে মনে হচ্ছে এখানে গরু-ছাগলের হাট বসেছে। এ জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

জানতে চাইলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সামিউল হাসান বলেন, আমাদের আনসার সদস্য দিয়ে ভিড় সামলাতে না পেরে এর আগে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। গ্রাহকরা কেউ কারো কোনো কথা শোনে না। অবস্থার আরো অবনতি হলে আগামীকাল থেকে বাইরে টেবিল-চেয়ার স্থাপন করে টাকা দেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বয়স্ক-বিধবা ভাতা, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টধারীসহ বিভিন্ন কম্পানির লেনদেন করা হয় সোনালী ব্যাংক থেকে। এ কারণে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের ভিড় লেগেই থাকে বলে জানান তিনি।