উপকূলে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন

khulna

মহামারী করোনা ও বন্যার প্রভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপকূল বাসীরা। উপকূলীয় এলাকায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে মহানগরের পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলীয় জোট, লিডার্স এবং সচেতন সংস্থা যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে ও পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলীয় জোটের সদস্য সচিব ও সিডিপির খুলনার সমন্বয়কারী এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন জোটের আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্যামল সিংহ রায় বাবলু, খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক আ ফ ম মহসীন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মিজানুর রহমান বাবু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাকিলা পারভীন, নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার, সাংবাদিক কৌশিক দে বাপি, ওয়ার্কার্স পার্টির নগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, এনসিআরবির জেলা সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম, গ্লোবাল খুলনার আহ্বায়ক শাহ মামুনুর রহমান তুহীন, জন উদ্যোগের মহেন্দ্রনাথ সেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির উদ্দিন, নিসচার এস এম এ রহিম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘প্রতিনিয়ত উপকূলের কোনো না কোনো স্থানে বাঁধ ভাঙছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। যতই সংস্কার করা হোক না কেন, ৬০ দশকে তৈরি করা আয়তনে ছোট উপকূলীয় বেড়িবাঁধ কোনোভাবেই ওই অঞ্চলকে সুরক্ষা দিতে পারবে না। তাই জলবাযু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় রেখে দ্রুত নতুন পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। ’

তারা উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের আওতায় একটি জরুরি তহবিল গঠনের দাবি জানান।

সমাবেশে উপকূলের সার্বিক উন্নয়নে হাওড় উন্নয়ন বোর্ডের ন্যায় উপকূলীয় পৃথক বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে ১০০ ফুট, উপরে ৩০ ফুট এবং যার উচ্চতা হবে ৩০ ফুট। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ওয়াপদা বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে চিংড়ি বা কাঁকড়ার ঘের তৈরিতে সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ’