নৌকা ও ঘর ভর্তি ইয়াবা, মাটির নিচে কোটি টাকা

Zahirul Islam Faroq

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্র মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের মাত্র ৯ দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার দফায় দফায় অভিযানে কক্সবাজারে সবচেয়ে বড় চালানের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে ৪ কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

আটক হওয়া ৪ জনের মধ্যে অন্যতম গডফাদার হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ফারুক। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক একজন কারবারির বাড়ি সংলগ্ন এলাকার মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে দুই বস্তা ভর্তি নগদ ১ কোটি ৭০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ৫৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

বড় চালানের ইয়াবা উদ্ধার করে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন- ‘ইয়াবার চালান পাচারে অনেক বড় বড় রাঘব বোয়াল জড়িত রয়েছে বলে মনে করছি। কিছু নামও হাতে এসেছে। নৌকা বোঝাই উদ্ধার করা চালানের সঙ্গে জড়িত দুই কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অজানা আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ইতিমধ্যে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের তিনি নিজেই জিজ্ঞাসাবাদসহ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটির তদারক করবেন। তিনি আরো বলেন, ইয়াবা কারবারিরা ঘন ঘন রূপ বদলায়। তাদের সেই বদলানো রূপ এবার উদঘাটন করা হবে বলেও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দলটি মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডি ব্রিজ সংলগ্ন নৌ ঘাটে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালান বোঝাই মাছ ধরা ইঞ্জিন নৌকাটি আটক করেন। এ সময় নৌকাটির মালিক নুরুল ইসলাম বাবুইয়া (২৮) এবং জহিরুল ইসলাম ফারুক (৩৫) নামের কারবারিদ্বয়কে ১৪ লাখ ইয়াবার চালানসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।

ইয়াবা কারবারি জহিরুল ইসলাম ফারুকের এমন অবৈধ কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে পুলিশ তার শ্বশুর আবুল কালাম ও তার শ্যালক শেখ আবদুল্লাহকেও আটক করেছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই জহিরুল ইসলাম ফারুক তার শ্বশুর, শ্যালক ও প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম বাবুইয়াসহ ইয়াবার কারবারে জড়িত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ছেলে জহিরুল ইসলাম ফারুক এবং একই এলাকার মোজাফ্ফর আহমদ প্রকাশ আগুরার ছেলে নুরুল ইসলাম বাবুসহ দুজনে মিলে গভীর সাগর থেকে ইয়াবার চালানটি চৌফলদন্ডি খাল দিয়ে নৌঘাটে নিয়ে যায়। রাতেই চালানটি খালের তীরে তোলার কথা ছিল। সেখান থেকেই ইয়াবার চালান পাচার হতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

পরে পুলিশ আটক অন্যতম ইয়াবা কারবারি জহিরুল ইসলাম ফারুকের দেওয়া জবানবন্দি মতে শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া নিজ ঘরের পার্শ্ববর্তী মাটি খুঁড়ে তার লুকায়িত দুই বস্তা ভর্তি এক কোটি ৭০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে। আটক জহিরুল ইসলাম ফারুক দীর্ঘদিন ধরে সাগর পথে মিয়ানমার থেকে বড় বড় ইয়াবা ডিলারদের আনা চালান পাচার করে অর্জিত কমিশনের টাকা মাটি খুঁড়ে মজুদ করে আসছিল। আর তার সহযোগী নুরুল ইসলাম বাবু নিজের নৌকা নিজে চালিয়েই গভীর সাগর থেকে চালান তুলে দিত উপকূলে।

এদিকে আটক যুবদল নেতা ফারুকের দেওয়া তথ্য মতে আজ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শহরের উত্তর নুনিয়াছড়ার ফারুকের চাচা শ্বশুর সৈয়দ আহমদের ঘর থেকে আরো ৩ লাখ ৭৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।