রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনা: ১৭ কবর খুঁড়ে মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা

kobor

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মহানগরী রাজশাহীর কাটাখালিতে বাস-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতদের জন্য পীরগঞ্জে ১৭টি কবর খুঁড়ে মরদেহের অপেক্ষায় আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসী। একই এলাকায় একসঙ্গে এত মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পুরো এলাকা।

মরদেহ আনা হলে রাত ৯টার দিকে পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণ জানাজা শেষে দাফন করা হবে।

মরদেহ দাফন করতে মহজিদপুরে ফুল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের জন্য ৫টি কবর, পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মেকার ভুট্টুর পরিবারের জন্য ৩টি, রাঙ্গামাটিতে ১টি, রাজারামপুরে ৪টি, দুরামিঠিপুরে ১টি কবরসহ ১৭টি কবর খনন করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার নিহতদের স্মরণে পীরগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ২ শতাধিক দোকানপাট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বন্ধ রেখে শোক পালন করে ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে পিকনিকের উদ্দেশ্যে হাই এইচ মাইক্রো বাস নিয়ে ৬ পরিবারের (চালকসহ) ১৮ জন রওনা দেন। বেলা ২টার দিকে রাজশাহীর কাটাখালি থানার সামনে মাইক্রো বাসটির সঙ্গে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই ৬ জন সহ ১৭ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন- উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মহজিদপুর গ্রামের ফুল মিয়ার পরিবারের ফুল মিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল মিয়া (১৫), মেয়ে সুমাইয়া (৭) ও ছোট মেয়ে সাজিদা (৩); একই ইউনিয়নের দুরামিঠিপুর গ্রামের সাইদুর রহমান (৪৫), চৈত্রকোল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের সালাউদ্দিনের পরিবারের সালাউদ্দিন (৩৯), স্ত্রী শামছুন্নাহার (৩২), শ্যালিকা কামরুন্নাহার বেগম (২৫), ছেলে সাজিদ (১০) ও মেয়ে সাবাহ খাতুন (৩); পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়ার মোটর সাইকেল মেকার তাজুল ইসলাম ভুট্টোর পরিবারের ভুট্টু (৪০), স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫), ছেলে ৮ম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (১৪); রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের মোকলেছার রহমানের পরিবারের ৩ সদস্য মোকলেছার রহমান (৪০), স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫) এবং মাইক্রোবাস চালক পৌরসভার পঁচাকান্দর গ্রামের হানিফ মিয়া ওরফে পঁচা (৩০)।

মোকলেছার রহমানের কলেজ পড়ুয়া ছেলে পাভেল মিয়া (১৮) এখনও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।