চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রতিবছর গড়ে ২০০-রও বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চরাঞ্চলঘেঁষা এলাকা হওয়ায় এবং ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার কারণে সাপের উপদ্রব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি মাসে গড়ে ১৭-১৮ জন সাপে কাটা রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
চিকিৎসকদের মতে, রোগীর অবস্থা বুঝে কখনো কখনো ২ থেকে ৩ ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সর্বোচ্চ ২ জন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের অনুমতি থাকায় রোগীদের চিকিৎসায় সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা ও চিকিৎসকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সাপ বাসা থেকে বের হয়ে আসে। রাস্তা-ঘাটে ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে মানুষের চলাচল এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে সাপের বিচরণ বেড়েছে।
চলতি বর্ষায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটায় পানি জমে থাকায় সাপের উপদ্রব আরও বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে জুন, জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে। কারণ, এই সময়ে সাপ তাদের প্রজনন ও শিকারের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।
তিনি জানান, গত ৩০ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর তারিখে ‘রাসেল ভাইপার’ সাপে কাটা দু’জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তাদের অ্যান্টিভেনম দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত পাঁচ দিনে সাপে কাটা পাঁচজন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজনকে অ্যান্টিভেনম দিতে হয়েছে।
ডা. হাসিবুল ইসলাম বলেন,সাপে কাটা মাত্রই দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নিতে হবে। ওঝা বা কবিরাজের কাছে গেলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা জীবনঘাতী হতে পারে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবছর ২০০-র বেশি সাপে কাটা রোগী আসছে এটা সত্যিই দুশ্চিন্তার বিষয়। অনেক রোগী চাঁদপুর সদর, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জ বা গজারিয়া চলে গেলেও, উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এত রোগী আসা প্রমাণ করে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২ জন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। তবে আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি, আশাকরি মাস খানেকের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে।







