বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরকে চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ বিশ্বব্যাংকের

Bangabandhu Industrial City

মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাস্ক, পিপিই, ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনতে গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশের জন্য ১০ কোটি ডলার বা ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছিল বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক।

এর দুই মাস পর এবার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করল ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা। দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই অর্থ খরচ হবে।

গতকাল শুক্রবার (২০ জুন) বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) উদ্যোগে নেওয়া ‘বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা’ শিরোনামের একটি প্রকল্পের আওতায় ৫০ কোটি ডলার খরচ হবে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে বেজা।

জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে সবুজ ও প্রকৃতিবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নে ঋণের টাকা খরচ হবে। তিনি বলেন, বেজার কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংক প্রশংসা করেছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরকে একটি আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ দিতে যা যা প্রয়োজন সবকিছু করা হবে। এটি হবে একটি পরিকল্পিত সবুজনগরী।

বেজা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। ৩০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর। এরইমধ্যে সেখানে দেড় শতাধিক কম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিশ্বব্যাংকের ঋণে রাস্তাঘাট, বিদ্যুত, গ্যাস, টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপনে খরচ হবে। এছাড়া শিল্পনগরে যেসব বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে সেগুলো হবে সবুজ ও প্রকৃতিবান্ধব। বিশ্বব্যাংকের ঋণে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধানাগার (সিইটিপি) নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সোলার সিস্টেম, পানি শোধানাগার নির্মাণ করা হবে।

এদিকে, গতকাল বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাজেট সহায়তা ও ডিজিটাল গভনমের্ন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) দুটি প্রকল্পে আরো ৫০ কোটি ডলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাজেট সহায়তায় দেওয়া হবে ২৫ কোটি ডলার আর অনলাইন সেবার জন্য দেওয়া হবে ২৫ কোটি ডলার। সবমিলিয়ে তিনটি প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার বা আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।