অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারে একটি বড় ধরনের বিপ্লব ঘটবে। শুধু শেয়ারবাজার নয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্পের বিনিয়োগ বড় আকারে বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, রপ্তানি ও উৎপাদন বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীলতা আসবে।’
গতকাল চট্টগ্রাম মহানগরের কাট্টলী এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম থেকে প্রথমবারের মতো অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর গতকালই তিনি প্রথবারের মতো চট্টগ্রাম আসেন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরে বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী ভিড় করেন।
এ ছাড়া কাট্টলী ও মেহেদীবাগের বাড়িতেও ভিড় করেন নেতা-কর্মীরা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। ইনডিকেটরগুলো দেখাচ্ছে এখন দারিদ্র্য বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে, প্রাইভেট সেক্টর মূলধনি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ঋণ কম নিচ্ছে। এগুলো সব মিলে অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো, সেগুলো আমরা আগে আমাদের প্রোগ্রামে দিয়েছি। বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই, জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ারবাজার যে একটু বেড়েছে তা সুখবর নিশ্চয়ই। তবে এ বাড়া দিয়ে শেয়ারবাজার চাঙা হবে না। শেয়ারবাজারে পূর্ণাঙ্গ একটি পরিবর্তন আনতে হবে। অনেক আইনকানুন পরিবর্তন করে শেয়ারবাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে ভালো শেয়ার বাজারে আসে। সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হন।’
বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গতানুগতিক বাজেট করতে চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি বাংলাদেশের বাজেট এমন হতে হবে যেখানে দেশের জনগণ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এখানে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। বাজটের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতির উন্নয়ন ও সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে, এটাই হবে টার্গেট। কোনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। যারা এতদিন সুযোগ নিয়ে বাকি জনগণকে বঞ্চিত করেছে, সেটা আমরা করতে চাই না।’ বিকালে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করতে বন্দরে সেবাদানকারী বিভিন্ন পক্ষের নেতা ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।







