প্রার্থীরা আবেগে মারামারি করেছেন, দায় তাদের: ইসি সচিব

Md. Humayun Kabir Khandaker

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার মন্তব্য করে বলেছেন যে, প্রার্থীরা এতো বেশি ইমোশনাল যে তারা নিজেরা মারামারি করেছেন। ঘটনা যেটি ঘটেছে সেটি হচ্ছে দুই প্রার্থী মারামারি করেছেন, এ দায়টি তাদের।

রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) চতুর্থ ধাপের পৌরসভা ভোট শেষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় একজন নিহত হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন ভবনে তিনি এ মন্তব্য করেন। পটিয়ায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মান্নানের ভাই আব্দুল্লাহ দু’পক্ষের মারামারিতে নিহত হন।

ইসি সচিব বলেন, পুরোদেশের ৫৫টি পৌরসভাতেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদীতে অনিয়মের কারণে চারটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে।

‘নোয়াখালীর সোনামুড়িতে একটি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। শরীয়তপুরের ডামুড্যায় দু’টি কেন্দ্রে অর্থাৎ মোট সাতটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। আর বাকি যে ৫০৩টি কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ’

তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা আমাদের যে রিপোর্ট দিয়েছেন, প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমাদের কাছে রিপোর্ট এসেছে এবং আমরা গণমাধ্যমে যা দেখেছি, তাতে আমাদের কাছে মনে হয়েছে ভালো হয়েছে ভোট।

নির্বাচন কেন্দ্র করে একজন নিহত হয়েছেন কিন্তু আপনাদের প্রত্যাশা ছিল সংঘাতমুক্ত নির্বাচন, সেটি কী পূরণ হয়েছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর বলেন, ঠিকই বলেছেন। পটিয়াতে যে ঘটনা ঘটেছে, আমাদের যে ভোটকেন্দ্র, সেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে, যারা প্রার্থী তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন লোক মারা গেছে, এটা নিসন্দেহে আমাদের জন্য দুঃখজনক।

‘এটি ঘটুক আমরা কেউ প্রত্যাশা করি না। প্রার্থীদের মধ্যে যে মারামারিটা হয়েছে ভোটকেন্দ্রের বাইরে। ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণে কিন্তু কোনো প্রভাব ফেলেনি। সেখানে ভোটগ্রহণ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। আমরা মনেকরি যে সাতটির কথা বলেছি, এগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলোতে ভালো ভোট হয়েছে। ’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, আপনাদের কাছে কী মনে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে মনে হয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন।

ইসি চাইলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব- এমনটা অনেকেই মনে করছেন, আপনার বক্তব্য কী- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি প্রাণও যেন না ঝরে। প্রার্থীরা বেশি ইমোশনাল হয়ে যান। তারা বাইরে গিয়ে তর্ক করেছেন, সেখানে নিহত হয়েছেন। এখানে ল এনফোর্সিং এজেন্সির ওই মুহূর্তে ওই জায়গায় গিয়ে ইন্টারফেয়ার করার সুযোগ ছিল না, এটিই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। ‘

‘আমারা এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্ট। ’ ইসি সচিব বলেন, কে বলেছে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। এটি বললে তো হবে না। স্থানীয় প্রশাসন রিটার্নিং অফিসারের অধীনে কাজ করেছে।

২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের পৌরসভাগুলো ভোটগ্রহণ শুরু করে ইসি। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি ৬১ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপে গত ৩০ জানুয়ারি ৬৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে ইসি। আর ৩১ টি পৌরসভায় পঞ্চমধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।