ব্লগার অভিজিতের রায়ে সন্তুষ্ট নন তার স্ত্রী

Abhijit's wife

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যা মামলায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি ফারাবীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার পর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতেই জঙ্গিরা অভিজিৎকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে পর্যবেক্ষণে জানান আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জিয়াউল হক, আকরাম হোসেন, আবু সিদ্দিক সোহেল, মোজাম্মেল হোসেন ও আরাফাত রহমান। এছাড়া শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

অভিজিৎ হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এই রায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অভিজিতের স্ত্রী বলেন, ‘অল্প কিছু চুনোপুঁটির বিচার করে জঙ্গিবাদের উত্থান ও শেকড় উপেক্ষা করা ন্যায়বিচার হতে পারে না।’

তিনি লিখেছেন, ‘ছয় বছর অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘসূত্রতার পরে আজ আমরা একটি রায় পেলাম। সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় আমি দুঃখিত। তার পরিবর্তে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে এবং যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি সেসব তুলে ধরতে আমি এখানে বিবৃতি তুলে ধরছি।’

এই হত্যা মামলার রায় নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে খুব একটা প্রত্যাশা ছিল না উল্লেখ করে রাফিদা লিখেছেন, ‘ছয় বছরের মধ্যে বাংলাদেশে এই মামলার তদন্তকাজে জড়িত কোনো একজন ব্যক্তিও আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। যদিও আমি নিজে একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং হামলার শিকার ব্যক্তি। এই বছরের জানুয়ারি মাসে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জনসমক্ষে মিথ্যা বলেছেন যে, আমি এই বিচারকার্যে সাক্ষ্য দিতে রাজি হইনি। আসল সত্য হলো, বাংলাদেশ সরকারের বা এই প্রসিকিউশনের কেউই কখনোই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’

মঙ্গলবার দেওয়া রায় সম্পর্কে নিজের চিন্তা তুলে ধরেন, ‘যে জঙ্গি সংগঠন আমাদের ওপর হামলা করেছিল তার প্রধান দুই অপরাধী শীর্ষ কমান্ডার সৈয়দ জিয়াউল হক এবং প্রধান পরিচালক কখনো ধরাই পড়েনি। গত সপ্তাহে (অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপনকে ২০১৫ সালে হত্যার ঘটনার মামলার রায়ের মাধ্যমে) আমরা জানতে পারলাম যে, হক (জিয়াউল হক) অভি এবং আমি হামলার শিকার হওয়ার আট মাস পরেও ধর্ম নিরপেক্ষ লেখক ও প্রকাশকদের ধারাবাহিকভাবে হত্যার মূল পরিকল্পনা চালিয়ে গেলেও তাকে কারাগারে ঢোকাতে ব্যর্থ হয়েছে।’

বিবৃতিতে রাফিদা আহমেদ বলেন, ‘২০১৫ সালে এবং তার পরে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপিত হলো, ধর্মনিরপেক্ষ লেখক, ব্লগার, অ্যাকটিভিস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন। কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা সিকিউরিটি আইন চালু হলো, ব্লগার, লেখক, প্রকাশকদের তাদের লেখার জন্য নিয়মিতভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।’