এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিচ্ছেদ!

Bill Gates and Melinda Gates

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার (৩ মে) যৌথ এক টুইট বার্তায় বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা।

তবে এতো বছর একসঙ্গে থাকার পর হঠাৎ কেনো এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তারা, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। অবশ্য, বিচ্ছেদ হলেও তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ এর কাজ চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফাউন্ডেশনের কৌশলগত বিষয়ের অনুমোদন, সব আইনি ইস্যু এবং সংস্থার সামগ্রিক দিকনির্দেশ নির্ধারণের জন্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা।

তবে ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হলেও বিল গেটস ও মেলিন্ডার যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি কিভাবে ভাগ হবে বা বিচ্ছেদের চুক্তি কী হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই এখনো কোনো কথা প্রকাশ করেনি। আদালতের কাছে তারা এই বৈবাহিক সম্পর্ক মিটিয়ে ফেলার আবেদন জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিচ্ছেদ চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায়িক স্বার্থ, দায়বদ্ধতা ও যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি ভাগ করার বিষয়ে আবেদনও জানিয়েছেন তারা।

বিল-মেলিন্ডার সম্পত্তির পরিমাণ কত?
বিল গেটস যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারিভাবে সবচেয়ে বেশি কৃষিজমির মালিক। বিল ২ লাখ ৪২ হাজার একর কৃষিজমির মালিক। এ ছাড়া গেটস পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। এদিকে বিল গেটসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আপস-রফা হিসেবে মেলিন্ডা কী পাবেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন
মেলিন্ডা ১৯৮৭ সালে মাইক্রোসফটে প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। সে সময় থেকে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব। পরে সেটি প্রেম পর্যায়ে গড়ায়। গেটস ও মেলিন্ডা ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন। এর ছয় বছর পর তারা যৌথভাবে ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ ফাউন্ডেশন প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।