ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আটকে আছে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা!

Mymensingh

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে কোনো নমুনার পরীক্ষা হলো না । দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এক পর্যায়ে বন্ধই করে দেয়া হয় আরটি পিসিআরআর মেশিনটি। এতে আটকে যায় ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা। এমন অবস্থার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকেই দায়ী করছেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের সহকারী পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম।

তিনি জানান, ল্যাবটিতে প্রতিদিন দুই ধাপে ১৮৮টি করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষা হয়। ‘সকালে সব নমুনা আসার পর বেলা ১টার মধ্যে নমুনাগুলো পিসিআর মেশিনে বসাই। কিন্তু এরপর থেকেই দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যায়। নিরবিচ্ছিন্ন তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পায়নি। তাই ফলাফলও পাওয়া যায়নি।’

ডা. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ক্রান্তিকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতা কাম্য নয়। তাদের উপর ভরসা না রেখে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চালু রাখার জন্য আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. চিত্ত রঞ্জন দেবনাথও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ রাখার জন্য আমরা বারবার বলেছি। এখন কী আর বলবো! আজকের পরীক্ষা আগামীকাল (শুক্রবার) হবে।

এসব নমুনা আগামীকাল কতটুকু কার্যকর থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম মশিউল আলম বলেন, ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচদিন কার্যকারিতা থাকে একটি নমুনার। এখন ৩০০টির বেশি নমুনা জমা আছে। প্রায় তিন হাজার নমুনার সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে পরীক্ষাগারে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ বলেন, বিকালের দিকে বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা হয়। আমরা বিষয়টি জানার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেই। একবার ২০ মিনিট আরেকবার ১৫ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে।

এদিকে, বিএমএ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি ডা. মতিউর রহমান ভুঁইয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরীক্ষায় যদি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে পাওয়া যেতো তাহলে সেসব এলাকা লকডাউন হতো। কিংবা প্রয়োজন হলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইসোলেশনে রাখা হতো।’

‘যেহেতু পরীক্ষা করাই সম্ভব হয়নি, সেহেতু জানাও যায়নি কারা আক্রান্ত হয়েছেন। এই একদিনে ময়মনসিংহ অঞ্চলে সংক্রমনের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল বলে যোগ করেন ডা. মতিউর রহমান ভুঁইয়া।