বর্তমান সরকার পুরো দেশকে জুয়ার আসর বানিয়েছে : ফখরুল

বর্তমান সরকার ক্যাসিনো এবং মেগা প্রজেক্টগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। জুয়ার আসর বানিয়েছে পুরো দেশটাকে। সরকারকে উদ্যেশ্য করে বলেন, আপনারা ক্যাসিনোর চেয়ে বড় অপরাধ করেছেন, এদেশের মানুষের ভোট ডাকাতি করে গনতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। সংবিধানের অধিকার থেকে জনগনকে বঞ্চিত করেছে। এটার জবাবদিহি জনগণের কাজে অবশ্যই দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা, জাতীয় পতাকা রক্ষা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে নিরাপদ ও তাদের চাকুরীর ব্যবস্থার লক্ষ্যে বিএনপি আন্দোলন করছে। আওয়ামী লীগের ঘোষণা ১০ টাকা কেজির চাল এখন ৪০ টাকা। অথচ কৃষক এখন ধানের দাম পায় না, কৃষক তার গরু বিক্রি করতে পারছে না। বারো বছর কি আপনারা কি আঙ্গুল চুষছিলেন? আপনারা একটা কথাও রাখেননি। কার ভোট কে দিচ্ছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাদের ভোট দিয়ে দিচ্ছেন।

সরকারের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন জনগণের শত্রু না হয়ে জনগণের পক্ষে আসুন। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জালেম সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান। অবিলম্বে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার আহবান জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

\"বর্তমান

সমাবেশে ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ঢাকা ছিলো মসজিদের শহর। আর ঢাকা মহানগরী এখন ক্যাসিনোর মহানগর। এই সরকার ডাকাতি, লুটপাট, সুবিধাবাদী ও ক্যাসিনোর সরকার। উন্নয়নের টাকা দেশের বাইরে পাচার করছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। এই সরকার জণগণের সরকার নয়। লুটপাট ও চাঁদাবাজিকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে।

সমাবেশে মীর্জা আব্বাস বলেন, কারাগারে রাখা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সরকার আমাদের দেখা করতে দেয় না। যেখানেই যাই সেখানেই সরকার বাধা দিচ্ছে। আর যেখানেই বাধা দিচ্ছে সেখানেই মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে।

সমাবেশে গয়েশ্বর রায় বলেন, খালেদার মুক্তির জন্য আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনের জন্য সরকারের আর অনুমতির প্রয়োজন নেই। অনুমতি উপেক্ষা করেই আন্দোলন চলবে।

ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ও উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান মিলন, ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা ওয়ারেছ আলী মামুন, কামরুজ্জামান রতন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বারেক গনি, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহ ফারুক, কৃষিবিদ শামুসুল আলম তোফা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, সাবেক এমপি বেগম নুরজাহান ইয়াসমিন, শাহ শহীদ সারোয়ার, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, মাহমুদুল হক রুবেল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।

কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার হাজার হাজার নেতাকর্মীর পাদচারণায় সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিলো।ইত্তেফাক

Scroll to Top