করোনার নতুন ধরন নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং হচ্ছে: স্বাস্থ্য ডিজি

Dr. ABM Khurshid Alam

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া নতুন ধরনের করোনা নিয়ে ঢাকার ৩টি ল্যাবে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হচ্ছে ।

আজ বুধবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মানুষের উদাসীনতার কারণে সংক্রমণ আবারো বাড়ছে।

তিনি বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে আবিষ্কৃত হয়েছিল একজনের মাধ্যমে, পাওয়ার পর আমরা কন্ট্রাক অ্যাসাইন করেছি। সেটার জন্যই হচ্ছে কিনা সেটার ব্যাপারে আমার কাছে তথ্য নেই। আমাদের আইইডিসিআর সজাগ আছে, তারা জিনোম সিকোয়েন্সিং করছে এবং আইসিডিডিআরবি করছে এবং সায়েন্স ল্যাবরেটারিও করছে। আমরা আমাদের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিকে সক্ষম করার জন্য চেষ্টা করছি ওটা যদি জিনোম সিকোয়েন্সিং করা যায় তাহলে সেটা বাড়িয়ে আনতে পারব।

এদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৬ জনের শরীরে মিলেছে ব্রিটেনে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরন জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৬ জনের মধ্যে যুক্তরাজ্যের করোনার নতুন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে এবং এ নতুন ধরনের ওপর ভ্যাকসিন ঠিকভাবে কাজ করছে।

আলমগীর বলেন, যুক্তরাজ্যের স্ট্রেন সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি। বাংলাদেশ এই স্ট্রেন নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। তবে বাংলাদেশে সংক্রমণ সংখ্যা বাড়ার জন্য ইউকে ভেরিয়েন্টের প্রভাব নেই।

এর আগে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ব্রিটেনে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনের সঙ্গে মিল আছে এমন জিনোমের উপস্থিতি বাংলাদেশে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিল বিজ্ঞান এবং শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) জিনোমিক গবেষণাগার ল্যাব।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাস খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের দেশে দেশে। প্রতিদিনই মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। যদিও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম, তারপরও থামেনি করোনার ভয়াবহতা।

করোনাভাইরাসে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৮৯ জনে। এ ছাড়া দেশে মোট করোনা শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭ জন।

২০১৯-এর ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।