করোনা রুখতে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস অ্যাপ’

bangladesh police

বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউন চলাকালীন সময়ে জনমানুষের জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের জন্য ‘মুভমেন্ট পাস অ্যাপ’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

আগামী মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) এ অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

সোমবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মুভমেন্ট পাস অ্যাপ’ এর উদ্বোধন করবেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ সদর দফতরের সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী সারাদেশ কঠোরভাবে লকডাউনে যাচ্ছে। লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকা পালন করবে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ সময় জনমানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা ভ্যাকসিন নিতে যারা বাসা থেকে বের হবেন তাদের জন্য ছাড় দেওয়া হলেও জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে লাগবে মুভমেন্ট পাস। যে কেউ তার প্রয়োজনের বিষয় জানিয়ে এ অ্যাপে আবেদন করলেও যৌক্তিক কারণে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করতে পাওয়া যাবে পাস।

সূত্রটি জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের আইসিটি উইংয়ের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। জরুরি পণ্য পরিবহন, সেবাদানসহ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের যাচাই-বাছাই করে পাস দেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুদি দোকানে কেনাকাটা, কাঁচা বাজার, ওষুধপত্র, চিকিৎসা চাকরি, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ, পাইকারি/খুচরা ক্রয় পর্যটন, মরদেহ সৎকার, ব্যবসা ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে এ পাস। যাদের বাইরে চলাফেরা প্রয়োজন কিন্তু কোনো ক্যাটাগরিতেই পড়েন না তাদের ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে পাস দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।

সড়কে কোথাও চলাচলের কারণে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলে এ পাস দেখালেই তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে যেতে দেওয়া হবে। এছাড়াও কোনো ব্যক্তির বাবা-মা/পরিবারের কেউ যদি অন্য জেলায় মারা যান, তবে তিনি অ্যাপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে পাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যৌক্তিক হলে মুহূর্তেই তিনি পাস পেয়ে যাবেন।