আগামীকাল দুটি যাত্রীবাহী জাহাজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দুটি যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’সহ বেশ কয়েকটি নৌযান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করবেন। এই দুটি জাহাজ উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন করবে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ মে) জাহাজ দুটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংস্থা মেরিন অ্যাকাডেমি, পায়রা বন্দর পুনর্বাসন প্রকল্পের বাড়ি, ড্রেজার, পরিদর্শন জাহাজও উদ্বোধন করবেন। গতকাল মঙ্গলবার (৪ মে) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, “৬ মে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার তৈরি চারটি মেরিন একাডেমি, পায়রা বন্দর পুনর্বাসন প্রকল্পের ৫০০টি বাড়ি, বিআইডব্লিউটিএ’র ২০টি ড্রেজার ও ৮৩টি ড্রেজার সহায়ক জলযান, একটি প্রশিক্ষণ ও একটি বিশেষ পরিদর্শন জাহাজ এবং একটি ড্রেজার বেইজ, বিআইডব্লিউটিসির দুটি যাত্রীবাহী জাহাজ উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করবেন।”

এছাড়া, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পায়রা আবাসন পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট মেরিন অ্যাকাডেমি উদ্বোধন করা হবে। এসব অবকাঠামো ও জলযান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নৌ-সেক্টরের উন্নয়নে নতুন মাত্রা সংযোজন করবে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিআইডব্লিউটিসি’র উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ ও সি-ট্রাক বহরকে দক্ষ ও যুগোপযোগী করতে নবনির্মিত অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি তাজউদ্দীন আহমদ’ ও ‘এমভি আইভি রহমান’ নির্মাণ করা হয়। জাহাজ দুটি কুমিরা-গুপ্তছড়া এবং চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ-হাতিয়া-বরিশাল রুটে চলাচল করবে। এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে বছরে ছয় লাখ ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রীবাহী জাহাজ ‘এমভি বাঙালি’ ও ‘এমভি মধুমতী’ উদ্বোধন করেছিলেন।

বিআইডব্লিউটিসির আরও ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ব নৌ-বাণিজ্য অর্থনীতিতে অবদান রাখা ও সমুদ্রগামী জাহাজে দেশের নাবিকদের চাকরির বিশাল সুযোগকে কাজে লাগানোর উদ্দেশে পাবনা, বরিশাল, রংপুর ও সিলেটে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন চারটি মেরিন অ্যাকাডেমি। যেখানে ক্রমান্বয়ে বছরে ৪০০ ক্যাডেটের পাশাপাশি সমুদ্রগামী মেরিনাররা বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ৫০০টি বাড়ি হস্তান্তর করা হবে। পর্যায়ক্রমে তিন হাজার ৪২৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। তাদের জন্য জীবন ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।