আজীবন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন নাসিম: আমির হোসেন আমু

Amir Hossain Amu

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু মন্তব্য করে বলেন, মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলেতে আজীবন কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, তিনি অসুস্থ থাকার পরও সারা দেশে ঘুরেছেন। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নানান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। মোহাম্মদ নাসিমের পিতা যেমন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আজীবন অবিচল ছিলেন। মোহম্মদ নাসিমও তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজীবন অবিচল ছিলেন। দলের ও দেশের প্রয়োজনে লড়াই করা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। মোহাম্মদ নাসিমের মতো নেতার কোন মৃত্যু নেই। তিনি আজীবন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।

বুধবার রাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শোক সভায় আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান। অনুষ্ঠানটি আওয়ামী লীগেরর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি প্রচারিত হয়।

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সাহারা খাতুন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ, সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তাদের আত্মার মাফফেরাত কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, নাসিমের মৃত্যু আমাদের কাঁদিয়েছে। তিনি আমাদের খুব প্রিয় একজন সহকর্মী ছিলেন। একটা বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন নাসিম। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সাথে আন্দোলন করেছি।

প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারলেই মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আমাদের সংগ্রামের বিশ্বস্ত সাথীকে হারালাম। তিনি কখনো অসম্প্রদায়িক সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গিকার থেকে বিচ্যুত হন নাই।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রাম, আগুন সন্ত্রাস বিরোধী সংগ্রাম; সবকিছুতে সাহসের সাথে রাজপথে নির্বিক সৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন মোহাম্মদ নাসিম।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলকে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। মোহাম্মদ নাসিমদের কোন মৃত্যু নেই। তারা আজীবন বেঁচে থাকবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, মোহাম্মদ নাসিমকে হারিয়ে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেললো অসম্প্রদায়িক আপাদমস্তক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক একজন নায়ককে। তিনি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম আন্দোলনে ১৪ দলকে যেভাবে সংগঠিত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার তুলনা নেই।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, তার অবর্তমানে ১৪ দল এবং আওয়ামী লীগের যে ক্ষতি হয়েছে এ ক্ষতি পূরণ হবার নয়।

মোহাম্মদ নাসিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাতীয় পার্টি- জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, বাংলাদশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদি দলের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে।