মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ

Mamata Banerjee

অডিও ক্লিপ বিতর্কে এবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাল ভারতের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে ‘অবৈধ’ ও ‘বেআইনি’ভাবে আড়িপাতা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। শনিবার তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল কমিশনের দফতরে গিয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানায়। তারা ‘তদন্ত’ ও ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার দাবি জানান।

ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া যশবন্ত সিন্‌হা এবং দলীয় নেতা পূর্ণেন্দু বসু।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দলীয় সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ শুনিয়ে অমিত দাবি করেন, সেটি মমতা ও কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা শীতলখুচির দলীয় প্রার্থী পার্তপ্রতিম রায়ের কথোপকথন। সেখানে এক নারী ও এক পুরুষ কণ্ঠকে শীতলখুচির ঘটনা নিয়ে কিছু কথা বলতে শোনা যায়।

শনিবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দল কমিশনে চিঠি দিয়ে জানায়, পঞ্চম দফার ভোটের আগের সন্ধ্যায় এই ক্লিপ বিজেপি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ভাবে প্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয় সংবাদ সম্মেলন করে ‘মমতা-পার্থ’র ওই ‘কথোপকথন’ শোনানো হয়েছে। তৃণমূলের মতে, এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি।

তৃণমূল কমিশনের কাছে তাদের অভিযোগে জানিয়েছে, বিজেপির নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে আড়িপাতা হয়েছে এবং কথোপকথন রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঘটনা ‘ভারতীয় সংবিধান’, ‘১৮৮৫ সালের ভারতীয় টেলিগ্রাফ আইন’, ‘২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন’, ‘১৮৬০ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধি’কে লঙ্ঘিত করেছে। ভারতীয় ফৌজদারি আইন অনুযায়ী মামলা করে, এই ঘটনার বিচারের দাবিও জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পূর্ণেন্দু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে আড়ি পেতে অডিও টেপ ফাঁস করেছে বিজেপি। এটা বেআইনি। সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধেই কমিশনে নালিশ করেছি।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ফোন যদি ট্যাপ না করা হয়, তাহলে কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের কাছে কথোপকথন পৌঁছে গেল?’

যদিও বিজেপি সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার তাদেরও এক প্রতিনিধি দল কমিশনে যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘ওই অডিওটি মুখ্যমন্ত্রী এবং তার দলের এক নেতার মধ্যে হয়েছে। নেটমাধ্যমে তাদের মধ্যে কেউ একজন এটা প্রকাশ করেছেন।’

একইসঙ্গে স্বপনের দাবি, ‘এটা ইচ্ছাকৃতভাবেই ভাইরাল করা হয়েছে। নির্বাচনে ফায়দা তোলার জন্য এই অডিও টেপের মাধ্যমে মেরুকরণের চেষ্টা করছে তৃণমূল। আমরা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।’