হাসপাতালের পেছনে মিলল করোনা রোগীর লাশ

Hospital

বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে হাসপাতালের পাশে করোনারোগীর লাশ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজের পর ওই রোগীকে হাসপাতালের পেছন থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে জীবিত নয়, মৃত অবস্থায়। মৃতের নাম চিত্তরঞ্জন বেরা (৫৮)। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের কলাইকুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যার ঘটনায় হাসপাতালের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন নিহতের পরিবার।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন ওই রোগী। শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের পেছনে তার লাশ পাওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগী মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। যদিও মৃতের ভাইপোর দাবি, ‘তার কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না।’ চিত্তরঞ্জন গত ২২ এপ্রিল থেকে এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। করোনার লক্ষণ থাকায় ওইদিন পরিজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রথমে তাকে ভর্তি করা হয় ‘ঘাটাল’ হাসপাতালে। তবে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে স্থানান্তর করা হয়।

শালবনি করোনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন চিত্তরঞ্জন। আশপাশে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। শনিবার সকালে হাসপাতালের পেছন দিকে তার লাশ মেলে।

কিন্তু তিনি ওয়ার্ড থেকে বের হলেন কীভাবে? তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার এই হাসপাতালে ৫১ জন ভর্তি ছিলেন। গত বছরও এখানে শৌচাগারে গলায় কাপড় জড়িয়ে এক রোগী আত্মহত্যা করেছিলেন। এ ক্ষেত্রেও পুলিশের অনুমান, চিত্তরঞ্জন রাতে শৌচাগারে গিয়েছিলেন। পরে শৌচাগারের জানলা ভেঙেই ঝাঁপ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে তিনি শৌচাগারের দিকে যাচ্ছেন।

এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হাসপাতালের চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি।

পরিবারের দাবি, চিত্তরঞ্জন নিখোঁজ থাকার কথা শুরুতে তাদের জানানো হয়নি। শুক্রবার চেষ্টা করেও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তারা। শনিবার সকালে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, রোগীকে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় তিন ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রোগীকে পাওয়া গেছে। তবে তিনি মৃত।