ধর্ষিতার বর্ণনায় রাম রহিমের \’ভয়ঙ্কর আন্ডারগ্রাউন্ড ধর্ষণ চেম্বার\’

আন্ডারগ্রাউন্ডে চেম্বার। সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন নারী ভক্তরা। বাইরের দুনিয়ার কারো জানা সম্ভব নয়, ওই চেম্বারে কি হয়। সেখানে নারী ভক্তদের নিয়ে ধর্ষণ করেন ভারতে ভক্তদের ধর্ষণে অভিযুক্ত ধর্মগুরু রাম রহিম সিং। সিবিআইয়ের বিচারকদের সামনে দেয়া বিবৃতিতে ধর্ষিত দুই নারী ভক্ত ওই রাম রহিমের জীবনের অন্ধকার অধ্যায় ফাঁস করে দিয়েছেন। রাম রহিমের ডেরা’য় কিভাবে ওই দুই নারী ও অন্য নারীদের ধর্ষণ করেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন তারা।

তারা বলেছেন, আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে রাম রহিমের চেম্বার। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘গুফা’। এখানেই থাকেন তিনি। বিচারকদের কাছে দেয়া বিবৃতিতে ওই দুই ধর্ষিতা বলেছেন, রাম রহিমের আন্ডারগ্রাউন্ডের ওই কোয়ার্টারগুলোতে শুধু নারীদের পাঠানো হয়। ধর্ষণকে বোঝাতে নারী ভক্তদের মধ্যে একটি শব্দ চালু হয়েছে। তা হলো ‘মাফি’। এমনই ধর্ষণের শিকার হরিয়ানার যমুনানগরের একজন নারী। তিনি ২০০৯ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি সিবিআই বিচারক একে বর্মার কাছে বিবৃতিতে বলেছেন, নিজের বোনের জন্য বিচার চাওয়ায় তার ভাইকে হত্যা করা হয়। এ জন্য ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে রাম রহিমের ডেরা’য় বসবাস করা শুরু করেন তিনি।

তার ভাষায়, প্রথমে যখন অন্য নারী ভক্তরা সেখানে আমাকে জিজ্ঞেস করতো পিতাজি আমাকে মাফি অনুমোদন করেছেন কিনা, তখন আমি বুঝতে পারতাম না তারা কি বোঝাতে চাইতেন। ১৯৯৯ সালের ২৮/২৯ আগস্ট আমাকে গুফা’র ভিতর ধর্ষণ করেন রাম রহিম। এর আগে আমি জানতাম না ‘মাফি’ বলতে কি বোঝানো হয়েছে। আরেকজন ধর্ষিতার বাড়ি সিরসায়। রাম রহিম তাকে নাজাম নাম দিয়েছিলেন।

তিনি বিবৃতিতে বলেছেন, ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমাকে ‘গুফা’য় ডেকে নেয়া হয়। সেখানে আমাকে ধর্ষণ করেন রাম রহিম সিং। অন্যদের কাছে এ কথা প্রকাশ না করতে তিনি আমাকে হুমকি দেন। ওদিকে রাম রহিমকে গ্রেপ্তারের ফলে হরিয়ানার পাঁচকুলা শহরে উত্তেজনা অব্যাহত আছে। সহিংসতায় শুক্রবার কমপক্ষে ৩০ জন মারা গেছেন। অব্যাহত রয়েছে কারফিউ।

বাংলাদেশ সময়: ১২০৫ ঘণ্টা, ২৬ আগস্ট ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি

Scroll to Top