দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতর মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার (১২ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেন, অবিলম্বে বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করে আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা ইরানকে টোল দিয়েছে। যারা অবৈধ টোল দেবে, তাদের কেউই গভীর সমুদ্রে নিরাপদ চলাচল করতে পারবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘উপযুক্ত মুহূর্তে’ ইরানকে শেষ করে দিতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ব্যর্থতার মূলে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা।
ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানিদের পেতে রাখা মাইনগুলো ধ্বংস করতে যাচ্ছে এবং সতর্ক করে দেন কোনো ইরানি যদি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বা ‘শান্তিপূর্ণ জাহাজের’ দিকে গুলি চালায় তবে তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যারা অবৈধ শুল্ক দেবে, তাদের কেউই গভীর সমুদ্রে নিরাপদ পথ পাবে না।এই অবৈধ চাঁদাবাজির কাজ থেকে ইরানকে লাভবান হতে দেওয়া হবে না। তারা টাকা চায় এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা পারমাণবিক শক্তি চায়।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের জন্য দায়ী এই জলপথের ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধে ইরানের অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের প্রধান উৎসটি কেড়ে নেওয়ার আশা করেছিলেন।
তবে ইসলামী বিপ্লবের নেতার আন্তর্জাতিক বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়তি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর চাবি ইরানের হাতে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়ার এক পোস্টে ভেলায়তি গতকাল পাকিস্তানেইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের ‘আবু আল-হায়াত গিরিখাত’ ঐতিহাসিকভাবে দেশে বিদেশি প্রবেশপথের প্রতিবন্ধকতার প্রতীক ছিল, তেমনি আজ হরমুজ প্রণালীর চাবি দৃঢ়ভাবে ইরানের শক্তিশালী হাতে রয়েছে।







