ইসরায়েলের ‘ফাঁদে’ না পড়তে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের পাতা ‘কৌশলগত ফাঁদে’ পা দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট বিশ্বাসযোগ্যতাও হারিয়ে যাবে।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য ভেলায়াতি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফলহীন কূটনীতি এবং চীন সফর শেষে খালি হাতে ফিরে আসা ওয়াশিংটনের ভুল কৌশলগত হিসাবের প্রমাণ।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, ইরানের তেল কিনছে— এমন চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রেখেছে।

অন্যদিকে, শি জিনপিং বৈঠকে ইরান প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধের সমালোচনা করে জানায়, এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না এবং এর অব্যাহত থাকারও কোনো কারণ নেই।

ভেলায়াতি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন সফরের খবরে আবুধাবির অসন্তোষ এবং পেন্টাগনের বিকৃত তথ্য উপস্থাপন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকটের উদাহরণ।

তিনি লেখেন, এমন পরিস্থিতিতে তেল আবিবের উসকানিতে ট্রাম্পের হুমকি আসলে একটি কৌশলগত ফাঁদে প্রবেশ করার শামিল। ইসরায়েলের দড়ি ধরে এই গর্তে নামার মূল্য অনেক বড় হবে। খুব শিগগিরই পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের অবশিষ্ট বিশ্বাসযোগ্যতার খোঁজে ওয়াশিংটনকে প্রদীপ হাতে ঘুরতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রায় তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে, যা টানা ৪০ দিন স্থায়ী হয়। পরে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি। তবে আলোচনা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।

সূত্র : প্রেসটিভি।

Scroll to Top