আমেরিকার নতুন করে শুরু করা সর্বাত্মক হামলা এবং তেহরানের ওপর অর্থনীতি শ্বাসরুদ্ধ করার জোরপূর্বক প্রচারণার মুখে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবারও মারাত্মক সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম প্রহরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলার পরপরই জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরানের হাতে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে যেসব সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের পথ খোলা রয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
আমেরিকাকে সহায়তা করা বা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ কঠোর করতে ভূমিকা রাখা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ভূমিকম্পতুল্য হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। গত ছয় মাস ধরে চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত আরও বাড়লে ইরান শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তারা এসব দেশের মূল জ্বালানি অবকাঠামো এবং গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে সরাসরি আঘাত হানতে পারে। এতে করে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ভয়াবহ ধাক্কা লাগবে, যা মার্কিন প্রশাসনের ওপর চরম রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে। পাশাপাশি, মরুময় এই অঞ্চলের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও সুপেয় পানি শোধনাগারগুলোতে আঘাত হানলে মার্কিন-বান্ধব রাজতন্ত্রগুলো অচল হয়ে পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধস নামানোর জন্য ইরানের একটি বড় অস্ত্র।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিপ্লবী গার্ডসের সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই সুস্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রথম থেকেই ইরানের অব্যাহত হামলা ও হুমকির কারণে বর্তমানে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। এর পাশাপাশি লোহিত সাগরে ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালীতে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা বাড়িয়ে নতুন সংকট তৈরি করেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রধান লোহিত সাগরীয় টার্মিনাল ইয়ানবু এবং সুয়েজ খালের কাছে চালানো ড্রোন হামলার মতো ঘটনাগুলো তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এ পথগুলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলা ইরানের জন্য সম্ভব হবে।
পশ্চিমা বিশ্বের মূল ভূখণ্ড ইরানের সরাসরি ব্যালেস্টিক মিসাইলের আওতার বাইরে হলেও, কৌশলগত অপ্রতিসম যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিকল্প উপায়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে আঘাত হানার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে রেভোলিউশনারি গার্ডসের। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, তেহরান আন্তর্জাতিক সাইবার হামলা এবং স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে পারে। ইতোমধ্যেই ব্রিটেনের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার পানি শোধনাগারে ইরান-সংযুক্ত হ্যাকারদের হামলা ও জটিল সাইবার আক্রমণের অভিযোগ এনেছে পশ্চিমা প্রশাসন। সরাসরি সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও এসব সাইবার হামলা ও অবকাঠামোতে অপ্রথাগত আঘাতের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিক জীবন অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরান।







