ইরাকের ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেশীদের ওপর হামলা, নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা

ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে বাইরের কিছু পক্ষ। এই পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে নতুন করে একটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন। একই সঙ্গে দেশের ভেতরের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যও জোরদার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইরাক সরকার।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুয়াদ হুসেইন বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

দেশের ভেতরের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংঘাতের বদলে আলোচনার মাধ্যমেই সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি গুরুত্বপূর্ণ চারটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এর মধ্যে ‘আসায়িব আহল আল-হক’ এবং ‘কাতাইব সাইয়িদ আল-শুহাদা’ তাদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে ‘হারাকাত আল-নুজাবা’ এবং ‘কাতাইব হিজবুল্লাহ’র সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে। এসব গোষ্ঠীর অস্ত্রের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ইরাক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সঙ্গে মাত্র দুটি ছাড়া বাকি সব সীমান্ত পথ বা ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতায় পৌঁছানোর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবারও তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরাক। এর আগে এই পথ দিয়ে তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় দেশটির প্রায় ৬ হাজার কোটি (৬০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে ফুয়াদ হুসেইন বলেন, ইরানকে তারা বন্ধু ও মিত্র হিসেবে স্বাগত জানায়, তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। পাশাপাশি স্পষ্ট ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গেও বিদ্যমান সব মতপার্থক্য দূর করতে চায় ইরাক।

Scroll to Top