‘বিএনপিকে শক্তিশালী করার নেপথ্য নায়ক হান্নান শাহ’

‘জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ।’ শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভায় একথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত আ স ম হান্নান শাহ’র ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হান্নান শাহ স্মৃতি পরিষদ এর আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ‘ হান্নান শাহ সুদিনে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হননি। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরে সবাই মনে করেছিল বিএনপি থাকবে না। ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু জীবিত জিয়ার চেয়ে মৃত জিয়া অনেক শক্তিশালী। হান্নান শাহ’র কর্মকাণ্ডে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী হয়।’

বিএনপি দলীয়ভাবে প্রয়াত হান্নান শাহ’র স্মরণসভার আয়োজন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুঃখ হয় আমাদের দলের অনেক সিনিয়র নেতাই মৃত্যুবরণ করছেন। আমরা দলের উদ্যোগে কোন স্মরণ সভা করি না।

স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে স্মরণ সভার আয়োজন করি। অথচ তারা তো দলের, দলের কাজ আগে। কারণ যাদের দল থাকে না সংগঠন থাকে না সেক্ষেত্রে মৃত্যুর পর স্মৃতি সংসদের মাধ্যমে আলোচনা সভা, স্মরণসভা করা হয়। এখন আমরা যারা মঞ্চে বসে আছি তাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে আমাদের মৃত্যুর পরেও কী হবে। সম্ভবত এমনই হবে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান ও ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহ’র ছবি দলের কার্যালয়ে নাই। তাই এখানে আমার চেয়ে যারা সবদিক থেকে বড় তাদের প্রতি অনুরোধ আমরা আমাদের সংস্কৃতিটাকে ফিরিয়ে আনি। পরস্পর পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতে শিখি। যে চলে গেছে সে আর কত বড় হবে। তার স্মৃতি বহন করলে, ছবি থাকলে; যিনি চলে গেছেন তিনি বড় হবেন না বরং আমরাই বড় হব।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘হান্নান শাহ’র সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিলো অত্যন্ত নিবিড়। তার নেতৃত্বে রাজপথে কাজ করেছি। হান্নান শাহ চলে গেছেন। অথচ সমস্ত জাতীয়তাবাদী শক্তি ও জনগণের কাছে এখনও তিনি সম্মানিত ও জনপ্রিয়। কারণ বিএনপির ওপরে সর্বশেষ যে থাবা এসেছিল তখন তিনি প্রতিরোধ করতে হুংকার দিয়েছেন। হান্নান শাহ সেদিন দলকে (বিএনপি) রক্ষা করতে চেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রক্ষা করতে লড়াই করেছেন। আমার প্রত্যাশা সেই লড়াই এখনও চলছে। এবং আমাদের নেত্রী জেল জুলুম থেকে রেহাই পাননি। আমরা যদি হান্নান শাহ’র প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই তাহলে যেন চলমান আন্দোলন থেকে থেমে না যাই। আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখি।’

বিএনপির দায়িত্বশীল এ নেতা বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামেনি। গণতন্ত্র নির্বাসিত। আর ১/১১ সরকারের কথা বললাম না। ১/১১ সরকারের আমলের কথা বললে অনেকের ভালো লাগবে তবে বেশি লোকের খারাপ লাগবে। কারণ ১/১১ অবৈধ শাসনামল মোকাবিলায় আমরা সংখ্যায় কম ছিলাম। বরং মোকাবিলাবিরোধী যারা ছিল তাদের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বে তারা সংখ্যায় শতকরা ৯০, আমরা শতকরা ১০ ভাগ। হয়তো বছরখানিক পর ১ ভাগও থাকবো না।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রতারণার নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনে। যে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু,গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রয়োজনে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

কূটনৈতিকভাবে সরকার এতিম হয়ে গেছে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার ব্যর্থ। ব্যর্থ তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। যার ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বন্ধুপ্রতিম চীন ও ভারত বাংলাদেশের পাশে নেই। জনগণও তাদের পাশে নেই। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন।’ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হওয়ায় বিএনপি আশাহত বলে জানান মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজ হান্নান শাহ জীবিত থাকলে ওয়ান-ইলেভেনের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতেও তার কন্ঠস্বর উচ্চ হতো। তিনি উচ্চকণ্ঠে বলতেন, মিয়ারমারকে সব দিক দিয়ে বয়কট কর, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক, তাদের সম্মানের সঙ্গে দেশে ফেরানো হোক।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইয়্যেদুল ইসলাম বাবুল, হান্নান শাহ’র কনিষ্ঠ ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৫৫ ঘণ্টা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি

Scroll to Top