ভারতে নিষিদ্ধ হচ্ছে প্রাণঘাতী আগাছানাশক প্যারাকুয়াট

বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত ও প্রাণঘাতী আগাছানাশক প্যারাকুয়াট কৃষিকাজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ রাসায়নিকের আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি, পরিবহন ও ব্যবহারের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গত জুনে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। খসড়া বিজ্ঞপ্তির ওপর অংশীজনদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের জন্য ১৩ জুলাই থেকে ৩০ দিনের সময় রাখা হয়েছে। এরপর এটি চূড়ান্ত করা হবে।

চিকিৎসক ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাকুয়াট বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক আগাছানাশকগুলোর একটি। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। অল্প পরিমাণ রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলেও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ত্বক ও চোখেও গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। অসাবধানতাবশত গিলে ফেলা, স্প্রে করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ অথবা ক্ষতের সংস্পর্শে এলেও প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, প্যারাকুয়াট আবিষ্কার ও উৎপাদনকারী দেশসহ বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে বহু আগেই নিষিদ্ধ হলেও ভারতে এতদিন এটি বৈধভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

এর আগে কেরালা ও অন্ধ্রপ্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্য প্যারাকুয়াট ব্যবহারে সীমিত বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তবে এবার সরকারি বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও নিবন্ধন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত হলে প্যারাকুয়াটের সব লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাতিল হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হবে।

ভারতে চা, আলু, তুলা, রাবার, কফি, ধান, ভুট্টা, গম ও আঙুর—এই নয়টি ফসলে প্যারাকুয়াট ব্যবহারের অনুমোদন ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা মুগ ডাল কাটার আগে ফসল দ্রুত শুকানোর জন্য অননুমোদিতভাবে এই রাসায়নিক ব্যবহার করতেন। এতে বিষাক্ত উপাদান খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্যারাকুয়াট নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ভারতে কৃষি খাতে আরও বড় নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। কারণ গ্লাইফোসেট, ২,৪-ডি, ডাইমেথোয়েট ও অ্যাসিফেটের মতো আরও কয়েকটি বিতর্কিত রাসায়নিক দেশটিতে এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে। ক্যানসার ও স্নায়বিক রোগের ঝুঁকির কারণে এসব রাসায়নিক বিশ্বের অনেক দেশে নিষিদ্ধ। এমনকি এসব উপাদানের উপস্থিতির কারণে ইউরোপে ভারতের কিছু কৃষিপণ্য রপ্তানিও বাতিল হয়েছে।

Scroll to Top