বান কি মুনের পর সিরিয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব

গৃহযুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো তিন দিনের সফরে সিরিয়াস পৌঁছেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গেল ১৭ বছরের মধ্যে কোনো ক্ষমতাসীন জাতিসংঘ প্রধানের এটিই প্রথম সরকারি সফর। ২০০৯ সালে বান কি-মুনের পর তিনিই প্রথম জাতিসংঘের প্রধান যিনি সিরিয়া সফর করছেন।

বান কি-মুনের সেই সফরের দুই বছর পরই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির আগে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার(২৫ জুলাই) সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জাতিসংঘের প্রধান ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। এই সফরের সময় গুতেরেস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আল-শারা আল-কায়েদার একজন সাবেক কমান্ডার, যিনি গত বছর পর্যন্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন।

২০১৬ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা সারা ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর একটি জোটের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সারা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে যেন তারা শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এমন একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে যা সিরিয়ার বহু-জাতি ও বহু-ধর্মীয় সমাজের সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।

গুতেরেস আল-শাইবানি, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা এবং সিরিয়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে, অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমিতে মোতায়েনকৃত ‘ইউএন ডিজএনগেজমেন্ট অবজার্ভার ফোর্স’-এর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনও এই সফরের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্থিতিশীল ও অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক সিরিয়া
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, গুতেরেস এ বিষয়ের ওপর জোর দেবেন যে, বর্তমান সুযোগটি কেবল সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই নয়, বরং সিরিয়ার এমন এক ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও। যা সকল সিরীয়র জন্য আরও স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ হবে।

গুতেরেস বেশ কয়েক দিন দামেস্কে অবস্থান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, তবে তার সফরের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সোমবার সিরিয়ার নতুন পার্লামেন্টে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

দামেস্কে একটি হোটেলের কাছে দুটি বোমা বিস্ফোরণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জাতিংঘ প্রধান দেশটিতে সফর করছেন। ওই হোটেলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাত কাটিয়েছিলেন। সেই বিস্ফোরণের ঘটনাটি আল-আসাদের পতনের পর কোনো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সিরিয়া সফরের গুরুত্বকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল।

সিরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বোমা হামলার জন্য দায়ী চক্রটিকে শনাক্ত করেছে এবং আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

Scroll to Top