যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তাদের প্রতিপক্ষের স্বার্থই হাসিল করবে।
ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে খামেনির টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। বার্তায় মুসলিম ঐক্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, যারা জেনে বা না জেনে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা প্রকৃত অর্থে ইসলামের শত্রুদেরই সহায়তা করে।
এতে প্রশ্ন রাখা হয়, মুসলিমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকত, তবে ফিলিস্তিনিদের কি এমন অসহায় অবস্থায় পড়তে হতো? ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সেই হামলায় তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছিলেন।
ঐক্যের এই আহ্বানটি শুক্রবার ইরানিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া তার বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। সেদিন তিনি সামাজিক সংহতি ক্ষুণ্ণ করে এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে জাতীয় ও জনমানসিক মনোবল দুর্বল করে এমন নিরুৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য পরিহার করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
খামেনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের জনগণ ও সরকারগুলো যদি ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে পরিচয়হীন দুর্বৃত্তরা তাদের ভূমি ও সম্পদের ওপর লোভ করার সাহস পেত না। বর্তমান সংঘাত চলাকালে তেহরান উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে, যা তেহরান ও তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
খামেনি বলেন, ইসলামি দেশগুলোর বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর শাসকদের প্রতি আমার আহ্বান হলো আপনারা আপনাদের প্রকৃত শত্রুকে চিহ্নিত করুন, তার পরিকল্পনা বুঝুন এবং তাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত হন।







