ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে টাকা আদায়ই রশীদের নেশা

Harunur Rashid

পেশায় গ্রামের একজন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট। মোটামুটি অনেকের মোবাইল নম্বরই জানা হারুনুর রশীদের (৩০)। সেই সূত্র ধরেই প্রথমে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে তরুণীদের সঙ্গে মোবাইলে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক। এরপর দু’জনের দেখা-দেখি। সেই দেখা শেষ পর্যন্ত গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে রাখা হয়- ওই মোবাইল ফোনেই। আর এরপরই শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং!

চাহিদা মতো টাকা বিকাশ না করলেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সেই ছবি ও ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় প্রেমিকাকে। টাকা পাঠানোর জন্য দিনের পর দিন তাকে বাধ্য করা হয়। এরপর জিম্মি প্রেমিকা বিভিন্ন উপায়ে টাকা সংগ্রহ করে তার দাবি পূরণ করতে থাকেন। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ প্রতারণার জন্য হারুনের একাধিক ফেইক আইডি রয়েছে।

মূলত প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন তার ভিডিও ধারণ করা এবং সেগুলো দেখিয়ে টাকা আদায় করাই তার নেশা। ঠিক কতজনের সঙ্গে তার এমন ঘটনা রয়েছে তার হদিস বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এমনই এক প্রতারণার স্বীকার তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে লম্পট প্রেমিককে ধরেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ।

ওই তরুণীর কাছ থেকে একই কায়দায় কয়েক দফায় মোট তিন লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে হারুন। তবে তিনলাখ টাকা হজমের পরও ওই তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে হারুনুর।

শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে ওই ভুক্তভোগী তরুণী থানায় অভিযোগ করেন। এরপর রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই বিকাশ এজেন্টকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

লম্পট হারুনুর রশীদ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের নামকান গ্রামের শাহাজাহান প্রামানিকের ছেলে। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ সদর ফতরের অস্থায়ী কার্যালয়ে তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

এ সময় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হারুনের কুকীর্তির এসব তথ্য তুলে ধরেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

তিনি বলেন, দুবছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল হারুনের। সে সময় কৌশলে ধারণ করে রেখেছিলেন প্রেমিকার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও। পরে সঙ্গত কারণেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক আর টেকেনি। এরপর প্রেমিকার সেই অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন হারুন।

ওই তরুণী হারুনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেসব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলারও অনুরোধ করেন। হারুন দাবি করেন টাকা। এরপর বিভিন্ন সময় ওই তরুণী তিন লাখ টাকাও দেন। কিন্তু তারপরও ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে যাচ্ছিলেন হারুন। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, হারুনুর রশীদ আসলে ওই তরুণীর সঙ্গে দুবছর ধরে প্রেমের অভিনয় করেছেন। মেয়েটির দুর্বলতার সুযোগে হারুন তার অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। এখন তাদের সম্পর্ক নেই। গত ১১ জানুয়ারি মেয়েটি জানতে পারেন, হারুন অন্য একটি নামের ফেসবুক আইডি থেকে তার ভিডিও এবং ছবি পরিচতদের মেসেঞ্জারে দিচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওই তরুণী হারুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসব মুছে ফেলার জন্য হারুন তখন তিন লাখ টাকা দাবি করেন।

পরে মানসম্মানের ভয়ে ওই তরুণী বিভিন্নভাবে টাকা ম্যানেজ করে হারুনের হাতে তুলে দেন। কিন্তু তারপরও হারুন থামেননি। আগের মতোই তিনি ভিডিও এবং ছবি ছড়াচ্ছিলেন। দাবি করছিলেন আরও টাকার। এ নিয়ে ভুক্তভোগী তরুণী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় হারুনকে তার নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, হারুনের মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। ওই ফোনটি সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। এতে বোঝা যাবে, এ ফোন দিয়ে হারুন আর কার কার সঙ্গে এমন প্রতারণা করেছেন। আদালতে হাজির করার পর তার বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।