গাজীপুরে শিক্ষকের অবৈধ সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী!

গাজীপুরের জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গত প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে ওই ছাত্রী। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. মনিরুজ্জামান (৪০) প্রভাতী শাখার সহকারী বাংলা শিক্ষক। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে। তিনি এই বিদ্যালয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে যোগদান করেন। কিছুদিন আগে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সাথে কৌশলে তার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার বাবা-মা ও সহপাঠীদের নজরে আসে। এরপর থেকে চক্ষুলজ্জার ভয়ে সে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি জানার পরও বুধবার অভিযুক্ত শিক্ষককের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো দু’দিনের ছুটি প্রদান করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া তাকে অন্যত্র বদলির তোড়জোড়ও শুরু করে দিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিস্তারিত পরিচয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তা না দিয়ে শ্রেণি শিক্ষক পরিমল চন্দ্র’র সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এছাড়া বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশ পেলে বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্টের বিষয়টি খেয়াল রাখতে বলেন তিনি।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ছাত্রী জানায়, শিক্ষক মনিরুজ্জামান প্রধান শিক্ষকের সরকারি বাসভবনে থাকেন। তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় ছাত্রীদের সাথে নানা প্রকার আপত্তিকর আচরণ করেন। আর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওঠে পড়ে লেগেছেন প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বদলীর জন্য জেলা প্রশাসক, এডিসি (শিক্ষা), জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজি অফিসে জানিয়েছি। ছাত্রীর পরিবার লিখিত অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি স্কুল ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে, তাই এটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন বিষয় নয়। ছাত্রীর পরিবার চাইলে তাকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

শ্রেণি শিক্ষক পরিমল চন্দ্র বলেন, ওই ছাত্রী চলতি বছরের জুলাই থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। ছাত্রী কত মাসের অন্তঃসত্ত্বা? বিষয়টি তিনি জানেন না। এর বেশি আর তেমন কিছুই পরিমলের জানা নেই বলেও দাবি করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষক অভিযুক্তের বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষক পরিমল চন্দ্র’র সাথে যোগাযোগ করতে বললেও পরিমল কোন তথ্য দিতে পারেনি।

জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, প্রধান শিক্ষক আমাকে ঘটনা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক বা ডিজি অফিস সিদ্ধান্ত দিলে তদন্ত হবে। অভিযোগ জানার পরও প্রধান শিক্ষক কীভাবে ছুটি মঞ্জুর করেছেন, তা আমার জানা নেই।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর পূর্বপশ্চিমকে বলেন, আমি ওই শিক্ষককে বদলির জন্য একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে কি না, এটা চিঠিতে নেই। যদি এ রকম ঘটনা ঘটে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১০১০ ঘণ্টা, ২৪ আগস্ট ২০১৭,

লেটেস্টবিডিনিউজ.কম/এসপি