১০৬ যাত্রী নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ল বিশেষ ফ্লাইট

Biman Bangladesh Airlines

আজ মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বিশেষ ফ্লাইটে প্রবাসীরা ফিরছেন কর্মস্থলে। তবে যাত্রীদের শিডিউল ফ্লাইটের দেরি কিংবা বাতিল হওয়ার কোনো তথ্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ১০৬ যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়েছে। আজ সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, সপ্তাহে তিন দিন মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনিবার সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট চলবে।

এর আগে সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যাবেন প্রবাসীরা।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। প্রথম দিন নানা জটিলতায় অর্ধেকের বেশি ফ্লাইট বাতিল হলেও গত দুদিন কোনো ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া গত তিন দিনে ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ। ফ্লাইট বাড়িয়েছে সৌদি এয়ারলাইনসও (সৌদিয়া)। তিন দিনে কয়েক হাজার কর্মী দেশ ছেড়েছেন।

প্রথম দিন ঢাকা ছেড়ে গেছে মাত্র চারটি বিশেষ ফ্লাইট। দ্বিতীয় দিন গেছে ১২টি এবং সোমবার (১৯ এপ্রিল) তৃতীয় দিনে গেছে ২০টি ফ্লাইট। আর অল্প কিছু যাত্রী নিয়ে সোমবার ১৯টি ফ্লাইট দেশে এসেছে বলে জানায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

সোমবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এদিন রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১৬টি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছে বাংলাদেশ বিমান ও সৌদিয়ার তিনটি করে ছয়টি ফ্লাইট।

গত ১১ এপ্রিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন চলাকালে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও বন্ধ থাকবে।

এরপর গত ১৫ এপ্রিল আন্তঃমন্ত্রলায়ের এক বৈঠকে শনিবার থেকে পরবর্তী এক সপ্তাহ সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরে প্রায় ১০০টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মহামারি করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের কারণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার অভিবাসী শ্রমিককে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানানো হয়।